মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা শেখ নূরে আলম হামিদী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা প্রদান, কর্মীদের মারধর করে রক্তাক্ত করা, হুমকি-ধামকি, গালিগালাজসহ নানা অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
মাওলানা শেখ নূরে আলম হামিদী অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী প্রচারকালে আমার কর্মীদের রক্তাক্ত করা হয়। গত তিন দিন আগে শ্রীমঙ্গলের সিন্দুরখান রোডে আমার গাড়িবহরে হামলার চেষ্টা করা হয়। কমলগঞ্জের ইসলামপুর এবং শ্রীমঙ্গলের মির্জাপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় আমার অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়, নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়। গতকাল (৮ ফেব্রুয়ারি) কমলগঞ্জের রামেশ্বরপুরে আমার গাড়ি আটকে খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং প্রচারণা বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়। শ্রীমঙ্গলের কলেজ রোডে আমার সমর্থকদের প্রচারণায় হুমকি দেওয়া হয়েছে ও গালিগালাজ করা হয়েছে। এভাবে আমাদের অনেক কর্মীকে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন মাদ্রাসা ও প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল সাহেবদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এগুলো আমাদের কারও জন্য কল্যাণকর নয়। নির্বাচনে আমার সম্মানিত প্রতিপক্ষ সবাইকে আমি সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি। তাঁদের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু কিছুসংখ্যক দলীয় নেতা-কর্মী এই কাজগুলো করেছেন এবং করছেন। এর ফল তাঁরাই ভোগ করবেন। যেখানেই বাধা আসছে সেখানেই রিকশা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত হচ্ছে। প্রত্যেকটি জায়গায় কারা এসবের সঙ্গে জড়িত, তা আমরা শনাক্ত করেছি, নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করেছি। আমার পক্ষ থেকে প্রশাসনকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। প্রশাসন এ বিষয়ে অবগত আছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ নূরে আলম হামিদী বলেন, “আমাদের একটি পারিবারিক ঐতিহ্য আছে। আমরা চাই না কাউকে আঘাত দিতে। এরপরও যদি আমাদের আঘাত দেওয়া হয়, তবে আমাদের বড়রা বলেন সবর করার জন্য। কারণ সবরে মেওয়া ফলে। সে জন্য আমরা ধৈর্যের রাস্তাটাই অবলম্বন করেছি। সবগুলোতেই আমাদের বিএনপির ভাইয়েরা জড়িত।”
২২ দফা নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জকে গ্রিন ও ক্লিন সিটিতে রূপান্তর করব। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করব। কৃষি ও মৎস্য খাতের আধুনিকীকরণ, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা হবে। নারী শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং কুটির শিল্পে সহায়তা দেওয়া হবে। চা-শ্রমিক ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন করা হবে। কমলগঞ্জে মেডিক্যাল কলেজ, শ্রীমঙ্গলে চা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও নিলাম কেন্দ্র আধুনিকীকরণ করা হবে। শমসেরনগর বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা হবে। প্রবাসীদের নিরাপদ অভিবাসন, রেমিট্যান্স সুবিধা এবং দেশে ফেরার পর পুনর্বাসন ও বিনিয়োগে সহায়তা করা হবে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্য রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে। আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে এ আসনকে গড়ে তুলব। আমাদের লক্ষ্য একটিই—শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মানুষের কল্যাণ।”
তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে আমি নির্বাচিত হলে মৌলভীবাজার-৪ আসনের জনগণ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত, আধুনিক ও সমৃদ্ধশালী এলাকায় বসবাস করবে। আমরা সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে সমানভাবে নিরাপদ ও উন্নত জীবন নিশ্চিত করব।
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

