AB Bank
  • ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

কালীগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল-দশা


Ekushey Sangbad
ওমর ফারুক, কালীগঞ্জ, গাজীপুর
০৮:১৪ পিএম, ৯ জুন, ২০২৬

কালীগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল-দশা

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ১২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধশতাধিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের দেরিতে উপস্থিতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তারা জয়দেবপুর, টঙ্গি, উত্তরাসহ রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পরিবারের সাথে বসবাস করায় প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কর্মস্থলে আসতে হয়। বিভিন্ন জেলা হতে এসকল শিক্ষকরা বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে এমপি, মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সুপারিশ বা অনুরোধে সুবিধা ভোগের আশায় আধা সরকারী পত্র বা (ডিও লেটার) এর মাধ্যমে কালীগঞ্জের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। বর্তমানে তারা উপজেলার বাইরে পরিবারের সদস্যদের সাথে বসবাস করে আসছে। এতে করে অধিকাংশ প্রধান শিক্ষকরা নির্ধারিত সময়ের পরে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। ফলে বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম, বিদ্যালয়ের পাঠদান ও শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। এসব অনিয়মের কারনে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে।

পর্যবেক্ষনে দেখা যায়, অধিকাংশ স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিবাবকদের বসার জন্য কোন ছাউনি নেই। বেশীর ভাগ স্কুলে ওয়াশ ব্লক না থাকায় শিক্ষার্থীদের স্যানিটেশন বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সম্ভব হচ্ছে না। ৩য় থেকে ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের রিডিং পড়া বা সাবলিল পাঠক তৈরী করার কথা থাকলেও গণীতের যোগ, বিয়োগ, পূরণ, ভাগ করতে শিক্ষার্থীরা পারদর্শী কি না সেই বিষয়ে নেই কোন তদারকি। উপজেলা শিক্ষা অফিসে যাওয়ার কথা বলে প্রধান শিক্ষকরা দুপুরের আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ করার প্রবনতা রয়েছে। উপজেলায় প্রায় আটশত শিক্ষক কর্মরত থাকলেও অতিসম্প্রতি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বাছাইয়ে মাত্র ১২জন শিক্ষক অংশ গ্রহন করে থাকে। এনিয়ে শিক্ষকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে প্রস্তুতির জন্য শিক্ষকদের নির্ধারিত সময়ে অবহিত করা হয়নি। শিক্ষক পদায়নে কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার কারনে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল। উপজেলার ১২৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যেন হযবরল অবস্থা।

অভিযোগ রয়েছে বেশ কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদায়নের বৈষম্য, প্রয়োজনের অতিরিক্ত শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিতির সংখ্যা তুলনামূলক কম, কর্তৃপক্ষের তদারকির ঘাটতি, অনেক বিদ্যালয়ে ছাত্র অনুপাতে শিক্ষক বেশী। কোন কোন স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি ২০/৩০ জনের চেয়েও কম।

অভিভাবক ও সুশিল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুধু একজন শিক্ষক নন, তিনি একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রধানও বটে। সেই ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে হলে বিদ্যালয়ের প্রধানদের দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা এবং সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতেই হবে। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের সময়ানুবর্তিতা শেখানোর আগে শিক্ষকদেরই তা অনুসরণ করা প্রয়োজন। তাদের আশঙ্কা প্রশাসন এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও চরম অব্যবস্থাপনার কারনে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়বে এবং এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে।

সরকারী বিধিমালা অনুযায়ী বিদ্যালয় শুরু হওয়ার আগেই প্রধান শিক্ষকদের উপস্থিত থাকার কথা। বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা, শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা, সকালের শিক্ষার্থী সমাবেশ, সরকারী নির্দেশনা বাস্তবায়নসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তার ওপর অর্পিত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আরোও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। প্রধান শিক্ষকদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং, আকস্মিক পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরী। কালীগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সময়মতো প্রধান শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়া এখন সময়ের দাবী।

অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কিছু শিক্ষক মাঝে মাঝে স্কুলে দেরিতে পৌছে। আমি যোগদানের পর হতে নিয়মিত স্কুল পরিদর্শন করে আসছি। যে সকল শিক্ষক বিদ্যালয়ে দেরিতে পৌছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মাসুদ ভূইয়া একুশে সংবাদ.কমকে মুঠোফোনে জানান, শিক্ষায় অব্যবস্থাপনা ও কিছু প্রধান শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনিয়মের ব্যাপারে অভিযোগের বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। অনিয়মের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে বলব।

প্রাথমিক শিক্ষায় চরম অব্যবস্থাপনার ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.টি.এম কামরুল ইসলাম প্রতিবেদককে জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্র্ণ। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের লক্ষ্যে এসব অনিয়ম ঠেকাতে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সভা করব।

গাজীপুর-৫ আসনের সাংসদ এ.কে.এম ফজলুল হক মিলনের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে ফোন করলে তিঁনি রিসিভ করেন নি। পরে একটি বার্তা পাঠিয়েও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

 

একুশে সংবাদ/ এ.জে

Link copied!