কৃষকের কাছ থেকে পাখি উদ্ধার করে,তাঁর আপন ঠিকানায় মুক্ত করে প্রশাংসায় ভাসছেন কোটচাঁদপুরের ৫ যুবক। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় হ্যাচারি কমপ্লেক্স সংলগ্ন মাঠে হাঁস পাখি দুইটি অবমুক্ত করেন তারা। পাখির প্রতি ভালবাসা থেকে কাজটি করেছেন বলে জানিয়েছেন ওই ৫ যুবক।
জানা যায়,কোটচাঁদপুর কুরি পাড়ার বাসিন্দা রতন খান খান। বৃহস্পতিবার মাঠে কাজ করার সময় হাঁস পাখি দুইটি ধরেন। যার মধ্যে একটি সরাল বা শিস হাঁস পাখি। অন্যটি ছিল ডাহুক বা পানপায়রা
বুনো হাঁস। সেই হাঁস পাখি দুইটিই ওই কৃষকের কাছ থেকে উদ্ধার করেন কোটচাঁদপুরের ৫ যুবক।
যার মধ্যে ছিলেন,মেহেদি হাসান আজিম (৩৩),আদনান মুরাদ (মুন্না) (২১),খালিদ হোসেন( ২০),সিয়াম ইসলাম( ১৮) ও আল মামুন (২৩)। এরমধ্যে ২ জন ব্যবসায়ি আর ৩ জন ছিলেন শিক্ষার্থী। তারা সবাই কোটচাঁদপুর পৌর শহরের বাসিন্দা।
এদিকে ওই ৫ যুবকের মধ্যে বয়সের কম বেশ থাকলেও প্রত্যেকের মধ্যে রয়েছে আলাদা মেল বন্ধন। সেই মেল বন্ধন থেকে তারা প্রতিনিয়ত কোটচাঁদপুর কেন্দ্রীয় হ্যাচারী কমপ্লেক্সের সামনে বসেন। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দুপুরেও তারা বসে ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির সামনে। হঠাৎ তাদের চোখে পড়ে হাঁস পাখি দুইটি। সে সময় তারা পাখি দুইটি উদ্ধার করে অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন।
আর সেই ভাবনা থেকেই কাজ। এরপর পাখি দুইটি কৃষকের কাছ থেকে উদ্ধার করেন। পরে তারা কোটচাঁদপুরের হ্যাচারি কমপ্লেক্স সংলগ্ন মাঠে ওই হাঁস পাখি দুইটিকে অবমুক্ত করেন। এরপর খবরটি ছড়িয়ে পড়েন অনলাইন,অফ লাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। এরপর থেকে প্রশাংসায় ভাসছেন ওই যুবকরা।বিষয়টি নিয়ে মেহেদী হাসান আজিম বলেন,আমরা প্রতিনিয়ত হ্যাচারির সামনে বসে থাকি।
বৃহস্পতিবার দুপুরেও বসে ছিলাম। এ সময় আমাদের চোখে পড়েন একজন কৃষক হাতে করে দুইটি ভিন্ন ধর্মী হাঁস পাখি নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় আমরা ওই কৃষকের সঙ্গে কথা বলে হাঁস দুটি উদ্ধারের চেষ্টা করি। তিনি প্রথমে হাঁস দুইটি আমাদের দিতে চাননি। পরে অনেক কথা বলে তাকে বুঝিয়ে হাঁস পাখি দুইটি উদ্ধার করা হয়। এরপর আমরা সবাই মিলে হ্যাচারি কমপ্লেক্স সংলগ্ন মাঠে হাঁস পাখি দুইটি অবমুক্ত করা হয়।
তিনি বলেন,মূলত পাখির প্রতি ভালবাসা থেকে আমরা হাঁস পাখি দুইটি উদ্ধার করে অবমুক্ত করেছি। তবে অবমুক্ত করার আগ পর্যন্ত মন খারাপ ছিল। এরপর কৃষকের কাছ থেকে হাঁস দুটি অবমুক্ত করতে পেরে আমরা বেশ খুশি। পথচারী রকি জোয়ার্দার বলেন,ওই সময় আমি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। দেখলাম মাঠের মধ্যে কয়েক জন কি একটা কাজ করছেন। এরপর জানতে পারলাম যুবকদের মহতি কাজের কথা। তারা যে কাজটি এটা অবশ্যই প্রশাংসা পাবার যোগ্য। আমি তাদের কাজের জন্য শুভ কামনা জানায়।
কোটচাঁদপুর উপজেলা বনবিভাগের বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন,পাখি ধরা, মারা আইনত দন্ডনীয়। তবে কোটচাঁদপুরের ৫ যুবক কৃষকের কাছ থেকে হাঁস দুইটি উদ্ধার করে,তাঁর আপন ঠিকানায় অবমুক্ত করে ভাল কাজ করেছেন। সাথে সাথে তারা পরিবেশ রক্ষা সহযোগিতা করেছেন।
তিনি বলেন,ওই যুবকদের ন্যায় সারা দেশের মানুষ যদি এ ধরনে কাজে এগিয়ে আসেন, তাহলে প্রাণীরা তাদের নিরাপদ আশ্রয় খুজে পাবেন। সাথে সাথে পরিবেশ ফিরে পাবেন তাঁর ভারসাম্য।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

