ঢাকা শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো টোকিও অলিম্পিক


Ekushey Sangbad
একুশে সংবাদ ডেস্ক
০৭:৪৭ পিএম, ৮ আগস্ট, ২০২১
সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো টোকিও অলিম্পিক

টোকিও অলিম্পিকের শেষ হলো মহা কর্মযজ্ঞ। ৫ বছর ধরে বিশাল আয়োজন করা হয় টোকিও অলিম্পিকের। আর তা বাস্তবায়ন হলো মাত্র ১৬ দিনেই। জাপানের রাজধানী টোকিওতে বসেছিল ১১ হাজারেরও বেশি অ্যাথলেটের মিলনমেলা। এই মিলন মেলায় সঙ্গে ছিল আরো কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারি। এ ছাড়াও আয়োজক, সম্প্রচারক, স্বেচ্ছাসেবক থেকে শুরু করে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষের কর্মযজ্ঞ হয় এই টোকিও অলিম্পিকে।

১৬দিনের পরিশ্রমের ফলে বিশাল এই আয়োজনের পর্দা নামলো আজ। আনন্দ উৎসাহের মধ্যমে  বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো টোকিও অলিম্পিক গেমস। বিদায়ী সম্ভাষণে টোকিও অলিম্পিক স্টেডিয়ামে মাস্ক পরে অ্যাথলেটরা মার্চপাস্টে অংশ নিয়েছেন। যেই মশালটি ২৩ জুলাই জ্বালানো হয়েছে , সেই মশালটি ১৬দিন জ্বালানোর পর অবশেষে আজ নিভিয়ে দেয়া হয়েছে। আবার তিন বছর পর এই মশালটিই জ্বলে উঠবে আবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে।

করোনা মহামারির মধ্যে এবারের টোকিও অলিম্পিক গেমস ছিল সত্যিই খুব স্পেশাল। করোনা মহামারির কারণে একটি বছর পিছিয়ে দেয়া হলো টোকিও অলিম্পিক। ২০২০ সালের পরিবর্তে নিয়ে আসা হয় ২০২১ সালে। এবারও গেমস আয়োজন করা যাবে কি না, তা নিয়ে ছিল তুমুল সংশয়। কারণ জাপানে পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল করোনা সংক্রমণ।

যে কারণে টোকিও অলিম্পিক গেমস আয়োজক কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছিল জরুরি অবস্থা জারি থাকলেও গেমস আয়োজন করা হবে। অবশেষে সব বাধা-বিপত্তি দুরে ঠেলে দিয়ে জ্বালানো হলো টোকিও গেমসের মশাল। জাপানের গ্র্যান্ডস্লাম জয়ী টেনিস খেলোয়াড় নাওমি ওসাকার হাতে জ্বলে ওঠে টোকিও অলিম্পিক গেমসের মশাল। জাপানের সম্রাট নারুহিতো অলিম্পিকের উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন।

গত ২৩শে জুলাই থেকে ৮ই আগস্ট, মোট ১৬ দিনে ৫০টি ডিসিপ্লিনে মোট ৩৩৯টি স্বর্ণের লড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০৬টি দেশের মোট ১১ হাজার ৬৫৬ জন অ্যাথলেট অংশগ্রহণ করেন এবারের অলিম্পিক গেমসে। এবারের অলিম্পিক গেমসে করোনার কারণে ছিল কড়া বিধি-নিষেধ। যেই কারণে অলিম্পিক ভিলেজে নানা সমালোচনারও শিকার হতে হয় আয়োজক নেতৃবৃন্দের।

অলিম্পিক গেমস চলাকালীন জাপানে করোনা সংক্রমণের কমতি ছিল না। উল্লেখযোগ্যসংখ্যাক অ্যাথলেট করোনা সংক্রমণের শিকারও হয়েছেন। সংক্রমণের ভয়াবহতা ঠেকাতে দর্শকহীন স্টেডিয়ামেই আয়োজন করা হয় গেমসের বিভিন্ন ইভেন্টের খেলা।

অলিম্পিক গেমসের সমাপণী অনুষ্ঠান শেষ হতেই সাদা এবং সোনালী রঙয়ের আতশবাজিতে ভরে ওঠে টোকিও অলিম্পিক স্টেডিয়ামের মাঠসহ এর চারপাশ।

বিভিন্ন দেশের অ্যাথলেটরা নিজেদের দেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে বিদায়ী মার্চে অংশগ্রহণ করেন। যদিও অনেক বিখ্যাত অ্যাথলেট এরই মধ্যে টোকিও থেকে বিদায় নিয়ে নিজ নিজ দেশে চলে গেছেন। এমনকি কোনো কোনো দেশের সব অ্যাথলেটই বিদায় নিয়েছেন আগে। গেমসের নিয়ম অনুযায়ী কোনো অ্যাথলেটের ইভেন্ট শেষ হয়ে গেলে তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিজ নিজ দেশের বিমান ধরতে হবে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে নানাভাবে জাপানের সংস্কৃতি, লোকাচার, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উত্থানকে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দেখানো হয়েছে কিভাবে দেশটি মারাত্মক সব ভূমিকম্প, সুনামি এবং ২০১১ সালে ঘটে যাওয়া পারমানবিক বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এই জাপান। এই মহামারি করোনায় অলিম্পিক গেমসের খেলা দেখে মুগ্ধ পুরো পৃথিবী।

একুশে সংবাদ/রাফি