ঢাকা শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. পডকাস্ট

বৈশাখী মেলায় মেতে উঠবে বাঙালী


Ekushey Sangbad
একুশে সংবাদ ডেস্ক
০৯:৫১ এএম, ১৪ এপ্রিল, ২০২১
বৈশাখী মেলায় মেতে উঠবে বাঙালী

করোনা কাল একদিন কেটে যাবেই যাবে , পৃথিবী আবার শান্ত হবে ।আবার মাঠে বৈশাখী মেলায় মেতে উঠবে বাঙালী -.

সবাই কে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা .. সুস্থ থাকুন ঘরে থাকুন নিরাপদ থাকুন ।

“আমি মেলা থেকে তালপাতার এক

বাঁশী কিনে এনেছি ।”

বৈশাখ মাস এলেই কেবল আমরা -বিশেষ করে বাঙালিরা বুঝি , লাল সাদা রঙ আর ইলিশ পান্তা ।তবে এটাও ঠিক যে লোক উৎসব গুলো আছে জন্য পহেলা বৈশাখ এলে মনে হয় অনেকের -একদিন বাঙালি ছিলাম রে ।

উৎসব জাতীর প্রাণ । উৎসব জাতির সৃষ্টির চৈতণ্য ।যে জাতীর উৎসব নেই , সে জাতীর প্রাণ নেই । মানুষের নি: সঙ্গ একাকীত্বের দিন থেকে সমষ্টির জীবনের উত্তরণের পথেই উৎসবের সৃষ্টি হয় । প্রতিদিনের তুচ্ছতার উর্ধ্বে উৎসব । উৎসব জীবনের ছন্দস্পন্দন । আমাদের বর্ণিল

বৈশাখী উৎসব আসলে লোক উৎসব - যে উৎসব লোক বিস্তৃত , সাধারণ মানুষের আনন্দে মূর্ত , তাকে বলা চলে লোক উৎসব ।

উৎসব আসলে মিলনানন্দ । একের সঙ্গে এক , একের সঙ্গে বহুর মিলনে গড়ে উঠে উৎসব । আমরা জানি যে মানুষ তার জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নানা অনুষ্ঠান ও আচার পালন করে থাকে । এই অনুষ্ঠান ও আচারের বৃহত্তর , সামগ্রীক ও সমষ্টিগত রূপ হলো উৎসব । উৎসব মানে বন্ধন , উৎসব মানে সামাজ সংহতি । পার্বণ হলো উৎসবের আদিরুপ ।

সমাজের ক্রমবিবর্তনে অগ্রসরের কারণে , আজকাল উৎসব ব্যপক , সর্বাত্নক ও বহুমুখী হয়ে উঠেছে । আজকাল মানুষ গোষ্ঠিগত নয় , বরং বিশ্বগত ।

আমরা যারা গ্রামে গন্জে বেড়ে উঠেছি , কম বেশী সবার নানারকম গ্রামীন উৎসব মেলার আনন্দ প্রাণে ধারণ করেই এখনো ফেলে আসা দিন গুলোর আনন্দ পোহাই ।

তবে তখন কার মেলার থেকে এখনকার মেলার আদল পাল্টেছ বটে । যুগের পরিবর্তনে মেলার পরিবর্তন । যেমন শিল্প মেলা , বৃক্ষ মেলা , বাণিজ্য মেলা , গ্রন্থ মেলা , পোষাক মেলা , কুটিরশিল্প মেলা , যুবমেলা ইত্যাদি । ইতিহাস ঘটালে জানা যায় যে , মহাভারতেও মেলার কথা আছে শঙ্কর মেলা , যে মেলায় নাকি পুরুষের শৌয্যবীর্য্যের প্রদর্শনী হতো ।বিক্রম আদিত্যের রাজত্বকালে কবি বা পণ্ডিতের মেলা হতো ।এছাড়াও গ্রীসে ও প্রাচীন রোমে ও মেলা বসতো । গ্রীসের অলিম্পিক , গিম্বিয়ান , মিনিয়ান , এবং ইসথোমিয়ান মেলা উল্লেখ যোগ্য । এসব মেলাও মানুষের শারিরীক ও মানষিক উৎকর্ষ বিধানই ছিল অন্যতম লক্ষ্য। আমাদের বাংলার মেলার প্রচলন বহুকাল থেকেই হয়েছে । মধ্যযুগের লড়াই , তরজা, বোলান , মুর্শিদা, পীর ফকির , আউল- বাউল , ভা সান যাত্রা , কথকতা , পালা গান ইত্যাদি ঘিরেই বসতো মেলা । এমন কি সাধক সন্ত , সন্নাস্যী, পীরদের থানে , দেউলে দরগায় , মন্দিরে, মঠে , মসজিদে , চার্চে মেলা বসতো , এখনো বসছে । তখনকার মেলা গুলো তে মূর্খ্য ছিল শারিরীক কলাকৌশল প্রদর্শন , কৃষিপণ্যের সমাবেশ ও বিপণন, সামাজিক সংস্কৃতির ক্রিয়াকর্মের উন্নতি বিধান , মানুষের মধ্যে সংযোগ স্থাপন । সর্বপরি মানুষে মানুষে ঐক্যসাধন বা সংহতি বিধান ।

কিন্তু এখন যেটা হচ্ছে , এক শ্রেণীর মেলা প্রাচীন ঐতিহ্যকে অনুসরণ করে চলে আসছে , আবার এক শ্রেণীর মেলা নতুন যুগে, যুগের প্রয়োজনে মানুষ সৃষ্টি করছে । হয়ত আগামী দিনেও করবে ।

সবার জন্য শুভকামনা।

শুভ নববর্ষ।