পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। বৈঠকে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছান। দিনের কর্মসূচির শুরুতে তিনি পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়ামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের দপ্তরে বৈঠকে বসেন।
বৈঠক শেষে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, “পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে আমার অত্যন্ত ভালো বৈঠক হয়েছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি।”
এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক কমানোর সুযোগ খুঁজছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে আগামীকাল সোমবার বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি বাণিজ্যচুক্তি সই হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এর আগে গত মাসে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছিল, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন সফরকালে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত ২০ শতাংশ শুল্কহার কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় বসতে সম্মত হন।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে সহায়তা দিতে উভয় দেশ একটি নতুন ও উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে একমত হয়েছে বলেও জানানো হয়।
আলোচিত প্রস্তাবের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ও মানবসৃষ্ট আঁশভিত্তিক টেক্সটাইল কাঁচামালের সমপরিমাণ বাংলাদেশি তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের মতে, এই সৃজনশীল ও উভয়পক্ষের জন্য লাভজনক উদ্যোগ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করবে, বাংলাদেশের উৎপাদক ও শ্রমিকদের উপকারে আসবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদকদের সঙ্গে সরবরাহ শৃঙ্খলের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

