AB Bank
  • ঢাকা
  • বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী
অপেক্ষার প্রহর গুনছে নরসিংদী-কিশোরগঞ্জের মানুষ

কাঙ্খিত ব্রীজ নির্মাণের আশায় স্বপ্ন বুনছে দুইপাড়ের মানুষ


Ekushey Sangbad
স্টাফ রিপোর্টার
০২:০১ পিএম, ২৩ জুন, ২০২৬

কাঙ্খিত ব্রীজ নির্মাণের আশায়  স্বপ্ন বুনছে দুইপাড়ের মানুষ

কিশোরগঞ্জ থেকে ফিরে, এসআই শফিক 
নরসিংদীর মনোহরদীর খিদিরপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার বৈরাগীর চর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ একটি কাঙ্খিত সেতু নির্মাণের আশায় প্রায় ৩০ বছর ধরে স্বপ্ন বুনছে। সরকার আসে সরকার যায়, ব্রীজ ণির্মানের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে আর ব্রীজ ণির্মান হয় না। প্রতিবারই ভোট আসলে দুই পাড়ের বাসিন্দাদের ব্রীজ ণির্মানের আশ্বাস দেয় জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু কাজের কাজ আর কিছুই হয় না। 
এবার আর আশ্বাস কিংবা মিথ্যা কোনো বানী শুনতে নারাজ স্থানীয় দুই পাড়েরর বাসিন্দারা। তাই প্রাণের দাবি আদায়ে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন তারা। এরইমধ্যে বৈরাগীরচর টু খিদিরপুর মনতলা ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার শাখাওয়াত হোসেন বকুল ও কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন এমপি।
জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর ধরে একটি ব্রীজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের ধারে ধারে ঘুরছেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মসুয়া ও নরসিংদী জেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা। দুইপাড়ের বাসিন্দারা খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন। এতে দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থা ও জীবনের ঝুঁকি এড়াতে হয় স্থানীয়দের। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সেখানে ব্রীজ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়ে আসছে। এখানে ব্রীজ না থাকায় আশেপাশের হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে খেয়াঘাটটি পার হয়ে প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ দুই জেলা সদরে যাতায়াত করে। শুধু তাই নয়, ব্রীজ না থাকায় স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন এবং সময় বেশি লাগে। বর্ষা মৌসুমে নৌকা পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, যার ফলে প্রায়শই নানা ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।

কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার বৈরাগীরচর-কাজিরচর, প্রেমারচর-চরআলগী এবং চরমান্দালীয়া,মনতলা-রামপুর এলাকার বাসিন্দারা। ঐতিহ্যবাহী মসুয়া ইউনিয়ন ও চরমান্দালীয়-খিদিরপুরের সকল পেশাশ্রেনি মানুষের সেতুবন্ধনের একমাত্র ভরসা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ নৌকা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। আর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েও বাস্তবে ণির্মান হচ্ছে না এক সময়ের উত্তাল ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর সেতু। শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থীদের যেমন অনেক ঝামেলায় পরতে হয়, তেমনি ব্যবসায়ী, মুমূর্ষু রোগী এবং অফিসগামীদেরও ভোগান্তির সীমা থাকে না।

দুই জেলার মনোহরদী ও কটিয়াদী উপজেলায় প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ এপার-ওপারে যাত্রায়াত করেন। দৈনন্দিন কাজে তাদের এই খেয়াঘাট দিয়ে দুর-দুরান্তে পাড়ি দিতে হয়। দীর্ঘদিন যাবৎ দুইপাড়ের কয়েক হাজার মানুষের দাবি বৈরাগীরচর-মনতলা খেয়াঘাটে জনসাধারনের পাড়াপাড়ে দ্রুত একটি সেতু ণির্মান করা হোক।বৈরাগীর চর ও মনতলা বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর যাবৎ বৈরাগীরচর-মনতলা খেয়াঘাটে একটি সেতু ণির্মানের দাবি জানিয়ে আসছেন। এখানে সেতু ণির্মানের জন্য কিশোরগঞ্জ-২ আসনের  এবং নরসিংদী-৪ আসনের সাবেক ও এমপিরা বেশ কয়েকবার এলাকাবাসিকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু হয়-হচ্ছে এবং হবে করে আরও ১৬ বছর কেটে গেছে। বাস্তবে সেতু ণির্মানের কোনো আলামত দেখতে পাননি এলাকাবাসি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দুইপাড়ের বাসিন্দারা। তারা জানান, মসুয়া ইউনিয়ন এবং চরমান্দালিয়া-খিদিরপুরসহ বেশ কয়েকটি ইউপি বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন দুইপাড়ের মানুষের সেতুবন্ধনে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় একটি সেতু ণির্মান হবে। যা আদৌ হচ্ছে না। মনে হচ্ছে-একটি সেতুর জন্য দুই জেলার বাসিন্দারা স্বপ্নের ধুলা চলে শুধু স্বপ্নই দেখে যাচ্ছে।

এলাকাবাসিরা বলছেন, আমাদের আশা-আকাঙ্খা এবং ভড়সাস্থল বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বর্তমানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছেন। এটা আমাদের গর্ব। তাঁর কাছে আমাদের প্রত্যাশা এখানে দ্রুত একটি সেতু ণির্মান করা হোক। কারণ বৈরাগীরচর-মনতলা খেয়াঘাটে একটি সেতু ণির্মান হলে  কিশোরগঞ্জ জেলার বৈরাগীরচর উচ্চ বিদ্যালয় ও নরসিংদী জেলার খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজে অধ্যায়নরত ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষদের দুর্ভোগ কমে আসবে। শুধু তাই নয় কিশোরগঞ্জ ঐতিহ্যবাহী গুরু দয়াল কলেজ ও পাগলা মসজিদ এবং প্রতি বছর শোলাকিয়া ঈদগায়ে নামাজ আদায় করতে এই খেয়াঘাট দিয়ে ২৫-৩০ হাজার মানুষ আসা-যাওয়া করেন। এখানে ব্রীজ ণির্মান হলে দুই পাড়ের হাটবাজারে সহজেই যেতে পারবে এলাকাবাসী। এতে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নদী পাড় হতে কোনো দুর্ঘটনা ও দুর্ভোগের স্বীকার হবে না। এপাড়-ওপাড়ের আত্মীয় স্বজনের মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজেই লাগব হবে। দুই পাড়ের বাসিন্দাদের সেতুবন্ধনে এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। 
বৈরাগীরচর হাই স্কুল সংলগ্ন বাসিন্দা আবেদ আলী জানান, একটা ব্রীজের জন্যে বহুদিন ধরে স্বপ্ন দেখেছি কিন্তু ব্রিজ নির্মাণের কোন লক্ষ্মণ দেখছিনা। বৈরাগীরচর বাসিন্দা বিশিষ্ট কাঠ ব্যবসায়ী ফুলু মিয়া জানান, এই ব্রীজ নির্মাণ হলে আমাদের ব্যবসা বানিজ্যের পথ সুগম হবে। বৈরাগীরচর বাজারের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ জানান, এই ব্রীজ নির্মাণ হলে আমাদের দুইটা অঞ্চলের মধ্যে ব্যবসা বানিজ্য  ও যোগাযোগ ব্যবস্হার উন্নয়ন হবে। মনতলার বাসিন্দা বুলবুল জানান, আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সরকারের কাছে দাবি মনতলা বৈরাগীরচর ব্রীজ দ্রুত নির্মাণ করা হোজ। একই দাবী জানিয়েছেন মনতলা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবু বাক্কার।
মসূয়া ইউনিয়নের বৈরাগীরচর গ্রামের বাসিন্দা সরারচর সৌদামিনী সুর বালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সফিকুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, বিগত পঁচিশ বছর যাবত শুনছি নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জ জেলার বাসিন্দাদের সেতুবন্ধনে বৈরাগীরচর মনতলা ব্রীজ নির্মাণ হবে হচ্ছে, প্রভাবশালীদের আশ্বাসেরও কমতি নেই। কিন্তু বাস্তবে এই ব্রিজ নির্মাণে কোন আলামত ও দেখছি না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন দুই জেলার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে অবদান রাখবে বৈরাগীরচর মনতলা ব্রিজ, এ সেতু নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। 

সেবামূলক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোর ঝলক এর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল হক জাকির জানান, বৈরাগীরচর মনতলা ব্রিজ নির্মাণ হলে দুই জেলার জনপদের বন্ধন সুদৃঢ় হবে, এলাকাবাসীর আর্থসামাজিক, শিক্ষা সংস্কৃতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। 
স্থানীয় বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন রিপন বলেন, আমাদের অনেক কষ্ট করে যাতায়াত করতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে কিছুটা নিরাপদ থাকলেও বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ আকার ধারণ করে এ নদী। দুঘটনায় কবলিত হয়ে এখানে প্রতিনিয়তই মানুষ মারা যায়।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!