AB Bank
  • ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

পুনঃনবায়নের দাবিতে টিসিবি ডিলারদের মানববন্ধন


Ekushey Sangbad
রফিকুল ইসলাম রাফি
০৩:২০ পিএম, ২১ জুলাই, ২০২৬

পুনঃনবায়নের দাবিতে টিসিবি ডিলারদের মানববন্ধন

সারা বাংলাদেশের ২০২৫ এবং ২০২৬ এর টিসিবি ডিলারদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে অসহায়ত্ব দাবি করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মঙ্গলবার (২১ শে জুলাই) রাজধানীর কাওরান বাজার টিসিবি প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে টিসিবি ডিলার বাঁচাও আন্দোলন। সারা বাংলাদেশ থেকে আগত টিসিবি ডিলাররা বক্তব্যে পুনঃনবায়নের আবেদন করেন।

মানববন্ধনে টিসিবি ডিলারদের পক্ষে মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বলেন, আজ থেকে ১মাস পূর্বে (২১শে জুন ২০২৬) জাতীয় প্রেসক্লাব মাওলানা মোঃ আকরাম খান হলে সংবাদ সম্মেলন করে আমাদের সমস্যারা কথা জানিয়েছি।

অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, দীর্ঘ একমাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও আশানুরূপ ও সন্তোষজনক ফলাফল না আসায় তারই ধারাবাহিকতায় আজকের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রধানের কর্মসূচি পালন করছি।

তিনি বলেন, সম্প্রতি টিসিবি কর্তৃক ২০২৬ সালের জুন মাসে যাদের ডিলারশীপের নবায়ন মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের পুনঃনবায়ন না করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলে আমরা অবগত হয়েছি। এ সিদ্ধান্তে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত। এছাড়াও ২০২৫ সালের জুনে যাদেরকে নবায়ন দেওয়ার কথা তাদেরকেও নবায়ন না করায় আমরা উৎকণ্ঠিত।

বেলাল হোসেন বলেন, টিসিবির ডিলার নিয়োগ ও পরিচালনা নীতিমালা, ২০২৫ (সংশোধিত) -এর ডিলার নির্বাচন, যোগ্যতা, আবেদন, যাচাই-বাছাই, নবায়ন এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণের বিস্তারিত বিধান রয়েছে। নীতিমালায় যোগ্যতা যাচাই ও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নবায়নের ব্যবস্থা ও বর্ণিত হয়েছে।

এছাড়া নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, কোনো ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, শর্ত ভঙ্গ বা অভিযোগ থাকলে নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

কিন্তু কোনো ধরনের ব্যক্তিগত অভিযোগ, তদন্ত বা কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন ব্যতিরেকে শুধু নির্দিষ্ট সময়ে নবায়নের মেয়াদ শেষ হওয়াকে ভিত্তি করে সকল ডিলারের পুনঃনবায়ন বন্ধ রাখা নীতিমালার উদ্দেশ্য, প্রশাসনিক ন্যায়বিচার এবং সংবিধানের মৌলিক চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে সকল নাগরিকের আইনের দৃষ্টিতে সমতার অধিকার, ৩১ অনুচ্ছেদে আইনগত সুরজ্জা লাভের অধিকার এবং ৪০ অনুচ্ছেদে বৈধ পেশা পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

বক্তারা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত বেকারত্বদের কর্মসংস্থান পরিকল্পনা ছিলো, কিন্তু টিসিবির কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে প্রধানমন্ত্রীর বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থানের বিপরীতে কয়েক হাজার মানুষ আজ বেকারত্বের দ্বারপ্রান্তে।

যা আমাদের কাম্য নয়। আমাদের মধ্যে অধিকাংশ ডিলারের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, পণ্য বিতরণে অনিয়ম কিংবা শাস্তিযোগ্য অভিযোগ নেই বরং দীর্ঘদিন ধরে সন্তোষজনকভাবে সরকারি দায়িত্ব পালন করেও শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে পুনঃনবায়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া আমাদের জন্য চরম বৈষম্যমূলক ও হতাশাজনক।

ডিলাররা বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান ডিলারদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আমরা বিনীতভাবে জানাতে চাই, আমরা কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তির অংশ নই।

বরং ফ্যাসিস্ট শাসনামলেও আমাদের অনেকেই অন্যায়, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নিয়েছি এবং জনগণের পাশে অবস্থান করেছি। শুধুমাত্র অপপ্রচার বা রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে আমাদের মূল্যায়ন করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই বিশ্বাস থেকেই আমাদের বিনীত আবেদন, প্রতিটি টিসিবি ডিলারকে তাঁর সততা, কর্মদক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সেবার রেকর্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা দাবি করেন।

আগত ডিলাররা বলেন, সারা বাংলাদেশে ১ কোটি পরিবারের মাঝে আমরা টিসিবির ডিলাররা পন্য সরবরাহ করে থাকী। নবায়ন না হলে, হাজার হাজার ডিলার ও তাদের পরিবার জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। টিসিবির অভিজ্ঞ বিতরণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিঘ্ন সৃষ্টি হবে। দীর্ঘদিনের দক্ষ ও অভিজ্ঞ ডিলারদের পরিবর্তে নতুন ব্যবস্থা চালু করতে অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হবে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ভোক্তাদের মাঝেও এর প্রভাব পড়তে পারে, যা টিসিবি ও বর্তমান সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন হওয়ার আশংকা রয়েছে।

এ সময় তারা দাবীতে বলেন,

১। ২০২৬ সালের জুন মাসে মেয়াদোত্তীর্ণ টিসিবি ডিলারদের পুনঃনবায়ন বন্ধ রাখার নির্দেশনা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক, পাশাপাশি ২০২৫ সালের জুনে যাদের সাথে নবায়ন হয়নি তাদেরকেও নবায়ন দেয়া হোক।

২। যেসব ডিলারের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণিত অনিয়ম, দুর্নীতি বা শাস্তিযোগ্য অভিযোগ নেই, তাদের পূর্বের ধারাবাহিকতায় দ্রুত পুনঃনবায়ন করা হোক।

৩। পুনঃনবায়নের ক্ষেত্রে নীতিমালায় বর্ণিত যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক মূল্যায়নকে একমাত্র ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হোক।

৪। কোনো ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে নীতিমালা অনুযায়ী কারণ দর্শানোর সুযোগ, তদন্ত ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হোক।

৫। দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে টিসিবির অভিজ্ঞ ও সফল ডিলারদের পুনঃনবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হোক।

এ বিষয়ে বিশিষ্ট জনেরা বলেন, বর্তমানে প্রায় সাড়ে আট হাজার টিসিবি ডিলার ও তাদের পরিবার এই ডিলারশিপের ওপর নির্ভরশীল। এই ডিলারশিপ শুধু একটি ব্যবসা নয়-এটি হাজারো পরিবারের একমাত্র জীবিকা ও পরিচিতি।

যথাযথ মূল্যায়ন ছাড়া চুক্তি নবায়ন না হলে হাজারো পরিবার চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়বে এবং একই সঙ্গে টিসিবির সেবার ধারাবাহিকতাও ব্যাহত হতে পারে।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!