ভ্রমণ শুরু করতে হলে সবচেয়ে ভালো হয় সূর্যোদয়ের পরপরই রওনা দেওয়া। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে পদ্মা সেতু হয়ে শরীয়তপুর জেলা শহরে পৌঁছে কোর্ট বিল্ডিংয়ের সামনে নামতে হবে।
সেখান থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশা রিজার্ভ করে প্রথমেই যেতে পারেন সদর উপজেলার ধানুকা গ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ধানুকা মনসা বাড়ি (ময়ূর ভট্টের বাড়ি)।
প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন। এখানে রয়েছে দুর্গা মন্দির, মনসা মন্দির এবং কালি মন্দির, যা এখনো অতীতের গৌরব বহন করে চলেছে।
ধানুকা মনসা বাড়ি ঘুরে মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিলেই পৌঁছে যাবেন সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরীর বাড়িতে।
নান্দনিক কারুকাজে সমৃদ্ধ এই প্রাসাদসদৃশ ভবনের সামনেই রয়েছে একটি বড় পুকুর, যা এর সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরীর বাবা জমিদার সূর্যকান্ত ঘটক চৌধুরী ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। এছাড়া এই অঞ্চলে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঐতিহাসিক ঘটনাটিও রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরীর সভাপতিত্বেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
চমৎকার এই বাড়িটি থেকে বিদায় নিয়ে আমরা গেলাম জেলার সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক রুদ্রকর মঠে যা আদতে একটি মন্দির। পৌছাতে সময় লাগলো প্রায় পনেরো মিনিট।ৎ
তৎকালীন জমিদার বাবু গুরুচরণ চক্রবর্তী তাঁর মা রাশমণি দেবীর সমাধিকে অমর করে রাখার জন্য এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন।১৮৯৮ সালে মঠটি পুনঃনির্মাণ করা হয়। মূল মন্দিরের উচ্চতা প্রায় ২০ মিটার এবং অন্য চারটি ছোট মন্দির উচ্চতা ১.৯৫ মিটার। মঠের দেয়ালে গায়ে ৪টি দেবী মূর্তির অলঙ্করণ রয়েছে। পুকুরের পাড় দিয়ে একটু হেটে ভিতরে গেলে আরো কিছু প্রাচীন জরাজীর্ণ স্থাপনা দেখতে পাবেন।
এবারের গন্তব্য জেলার সদর উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক বুড়িরহাট জামে মসজিদ। রুদ্রকর মঠ থেকে ভেদরগঞ্জ-শরীয়তপুর সড়ক ধরে এখানে আসতে সময় লাগে মাত্র ১০ মিনিট। কারুকার্য খচিত চমৎকার এই মসজিদটি ১৯০৭ সালে নির্মাণ করা হয়।
কলকাতা থেকে আনা বিভিন্ন পাথরের তৈরি নানা কারুকার্য খচিত রয়েছে মসজিদের দেয়ালে। ৮০’র দশকে নির্মাণ করা হয় মসজিদের বিশাল উঁচু মিনার। এ মিনারটি তৈরি করতে বিরতিহীনভাবে ১০ জন মিস্ত্রির সময় লাগে দেড় বছর।
এখান থেকে ৩ কিমি দুরত্বে শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও ইউনিয়নের ছয়গাঁও বাংলা বাজার গ্রামে অবস্থিত ছয়গাঁও জমিদার বাড়ি/শিকদার বাড়ি। ভেদরগঞ্জ-শরীয়তপুর সড়ক ধরে দশ মিনিটে পৌছে গেলাম এই জমিদার বাড়িতে। বাড়িটি ১৯৩৪ সালে নির্মাণ করা হয়। ইট,সুরকি ও রড দিয়ে নির্মিত বাড়িটির অসাধারণ নির্মাণশৈলী আপনাকে মুগ্ধ করবে।
এবার আমরা যাবো আমাদের আজকের শেষ গন্তব্য শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নে অবস্থিত রামসাধুর আশ্রমে। হিন্দু সাধক রামঠাকুর পরিচিত ছিলেন শ্রী কৈবলযোনাথ নামে।
১৮৬০ সালে বর্তমান শরীয়তপুর জেলায় ব্রাহ্মন বিদ্যালঙ্কার পরিবারে জন্মগ্রহন করেন রামঠাকুর। প্রতিবছর এখানে তিনদিন ব্যাপী মেলা বসে এখানে। এই আশ্রমটি শরীয়তপুর জেলার সর্বাধিক জনপ্রিয় হিন্দু স্থাপনা।
জেড এইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জনাব জয়নুল হক সিকদার তাঁর নিজ জেলা শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থানাধীন মধুপুর গ্রামে ২০১২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। কিছু সময়ের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ঘুরে দেখতে পারেন।এর মধ্য দিয়েই শেষ হলো শরীয়তপুর জেলা ভ্রমন।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

