পাবনার ফরিদপুর উপজেলার পুরন্দপুর গ্রামের শিক্ষার্থীরা একটি সেতুর অভাবে নিজেদের গ্রামের বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বি.এল. বাড়ী আলহাজ আবুল হোসেন উচ্চবিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করলেও গুমানি নদীর কারণে বিদ্যালয়টিতে সহজে যাতায়াত করতে পারছে না অধিকাংশ শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয়টি পুরন্দপুর গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গুমানি নদীর অপর পাড়ে অবস্থিত। নদী পারাপারের একমাত্র মাধ্যম একটি ছোট খেয়া নৌকা। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এ যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে অনেক শিক্ষার্থী আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়টিতে ভর্তি হতে পারে না। এর পরিবর্তে তারা পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে। অপেক্ষাকৃত সচ্ছল পরিবারের সন্তানরা ফরিদপুর উপজেলা সদরের বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে চলনবিল অধ্যুষিত এ অঞ্চলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে খেয়া নৌকায় পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে দমকা হাওয়া কিংবা বৈরী আবহাওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর বলেন, “প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিদ্যালয়টি সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু একটি সেতুর অভাবে নিজ গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই এই প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”
সরেজমিনে পুরন্দপুর ঘাটে দেখা যায়, ছোট খেয়া নৌকায় সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও নদী পারাপার করছে। সামান্য বাতাসেই নৌকাটি দুলে উঠলে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে একে অপরকে আঁকড়ে ধরে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে।
পুরন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা আলতাফ হোসেন সরদার বলেন, “এই খেয়া পার হয়ে পুরন্দপুরসহ আশপাশের গ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষকে ফরিদপুর উপজেলা সদর ও পাবনা জেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের কারণে অনেককে বিকল্প পথে অতিরিক্ত দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়।”
স্থানীয় শিক্ষক সানোয়ার হোসেন বলেন, “নদীর এক পাশে অবস্থিত এরশাদনগর হাট এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। নদীর অপর পাড়ের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে এখানে আসেন। আধুনিক যুগে একটি সেতুর অভাবে আমাদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।”
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পুরন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা লতিফুল হাসান চঞ্চল বলেন, “শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচলের জন্য এখানে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। শুধু বিদ্যালয় নয়, ইউনিয়নের সরকারি হাসপাতালটিও বিদ্যালয়সংলগ্ন পাড়ে অবস্থিত। যাতায়াতের সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষ সরকারি চিকিৎসাসেবা গ্রহণেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।”
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে গুমানি নদীর ওপর দ্রুত একটি সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

