AB Bank
  • ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

বৃক্ষে ঘেরা কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান থেকে ঘুরে আসুন


Ekushey Sangbad
পর্যটন ডেস্ক
০৩:৫৫ পিএম, ২১ জুলাই, ২০২৬

বৃক্ষে ঘেরা কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান থেকে ঘুরে আসুন

কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান (Kaptai National Park) বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত একটি অন্যতম প্রধান সংরক্ষিত বনাঞ্চল।

সবুজ পাহাড়, ঘন অরণ্য আর আঁকাবাঁকা লেকের জল যেখানে এসে মিলেছে, সেখানেই গড়ে উঠেছে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান।

শহুরে জীবনের কোলাহল থেকে দূরে, প্রকৃতির একদম কাছাকাছি কিছু সময় কাটানোর জন্য এটি বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ইকো-ট্যুরিজম স্পট।

পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত এই উদ্যানটি বন্যপ্রাণী প্রেমী, ট্র্যাকার এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য। এখানে একদিকে যেমন রয়েছে কাপ্তাই লেকের শান্ত জলরাশি, অন্যদিকে রয়েছে কর্ণফুলী নদীর স্রোতস্বিনী রূপ। আর এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে চিরহরিৎ বৃক্ষে ঘেরা কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান। 

ইতিহাস ও পটভূমি

কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানটি পার্বত্য চট্টগ্রামের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৯৯ সালে সরকারিভাবে ‘জাতীয় উদ্যান’ হিসেবে ঘোষিত হয়।

ঐতিহাসিকভাবে এই বনাঞ্চলটি কর্ড প্রজেক্ট এবং কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের পর থেকে পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এক সময় এই অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বন্য হাতি এবং বাঘের বিচরণ ছিল। বর্তমানে বাঘ বিলুপ্ত হলেও, এটি এখনো বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান হাতির করিডোর বা চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে কি দেখবেন
বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ: উদ্যানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য। ভাগ্য ভালো হলে ট্র্যাকিং করার সময় বন্য এশীয় হাতির পালের দেখা মিলতে পারে। এছাড়া এখানে রয়েছে মায়া হরিণ, মুখপোড়া হনুমান, চশমা পরা হনুমান, উদবিড়াল এবং বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ও গিরগিটি।

এশীয় হাতির করিডোর: এই উদ্যানটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হাতির একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর। শীতকালে খাবারের সন্ধানে হাতির দল এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যাতায়াত করে। বন বিভাগের বিশেষ ওয়াচ টাওয়ার থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে এই দৃশ্য দেখার সুযোগ রয়েছে।

ট্র্যাকিং এবং হাইকিং ট্রেইল: অরণ্যের বুক চিরে চলে গেছে বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক ট্রেইল। অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকদের জন্য এই ট্রেইলগুলোতে হাইকিং করা অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। উঁচু-নিচু পাহাড় এবং ঘন সেগুন ও গর্জন বাগানের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়ার অভিজ্ঞতা এক অনন্য অনুভূতি দেয়।
পাখি দেখা: পাখিপ্রেমীদের জন্য কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান একটি আদেশ স্থান। এখানে ধনেশ (Hornbill), মথুরা, ভীমরাজ, ফিঙে, এবং বিভিন্ন প্রজাতির ঘুঘুসহ প্রায় শতাধিক প্রজাতির পাখির দেখা মেলে।

সকালের দিকে বনের ভেতর পাখিদের কলকাকলি মুখরিত পরিবেশ তৈরি করে।

পিকনিক ও বিনোদন স্পট: উদ্যানের ভেতরে প্রশান্তি পার্ক ও বন বিভাগের বিশ্রামাগার রয়েছে, যেখানে পিকনিক করার সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে।

ভ্রমণের উপযুক্ত সময় 
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের শীতকাল কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক। তবে বর্ষার ঠিক পর পরই বনের সবুজ রূপ সবচেয়ে সুন্দর দেখায়।

সাধারণত প্রতিদিন সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে বিকেলের পর বনের গভীরে না থাকাই শ্রেয়।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!