হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলার খবরও পাওয়া গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনাকে ওয়াশিংটন ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে দেখছে। এ ঘটনার জন্য ইরানকে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন এ পদক্ষেপের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর আগে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া একটি অস্থায়ী সমঝোতার অংশ হিসেবে মার্কিন অর্থ বিভাগ গত মাসে ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের তেল রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছিল। তবে মঙ্গলবার সেই অনুমোদন প্রত্যাহার করে সময়সীমা কমিয়ে ১৭ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে ব্রিটিশ নৌবাহিনী-সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশে অন্তত তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব হামলার দায় এখনো কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি এবং ইরানের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি দুই দেশের মধ্যকার আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো।
বিশ্লেষকদের মতে, তেল রপ্তানি ইরানের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎসগুলোর একটি। দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বিশেষ করে চীনে তেল রপ্তানি বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখার চেষ্টা করে আসছে তেহরান।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

