সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি কমতে শুরু করায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হতে পারে। তবে একই সময়ে মনু ও খোয়াই নদীর পানি দ্রুত বাড়ার আশঙ্কায় মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বুধবার (১৫ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল ইসলাম শোভনের সই করা বৃষ্টিপাত, নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের তিনটি নদীর তিনটি পয়েন্টে পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এগুলো হলো— গাইবান্ধার তারাপুরে তিস্তা নদী, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদী এবং নেত্রকোণার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদী।
বাপাউবো জানায়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আগামী দুই দিনের মধ্যে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে উত্তর উড়িষ্যা ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ অতিক্রম করতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি কমেছে। আগামী তিন দিনও এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা ও কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, একই সময়ে সিলেট বিভাগের মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি বেড়েছে। আগামী এক দিনে এসব নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে পরবর্তী দুই দিনে কমতে পারে। এ কারণে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৌলভীবাজারের মনু নদী এবং হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। ফলে দুই জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী এবং ভুগাই-কংস নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নেত্রকোণার সোমেশ্বরী নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিরও উন্নতি হতে পারে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

