পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) সাংস্কৃতিক চর্চার প্রাণকেন্দ্র কবি বন্দে আলী মিয়া মুক্তমঞ্চ। গতবছর নভেম্বর মাসে ১০ তলা বিশিষ্ট জুলাই-৬ হল উদ্বোধনের পরেই মুখ থুবড়ে পড়ে মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক চর্চা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের পাশে নির্মিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার কথা বিবেচনা করে সেখানে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে না। ফলে প্রায় ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত মুক্তমঞ্চটি এখন ব্যবহারের অভাবে পড়ে আছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পাবনা জেলার প্রখ্যাত সাহিত্যিক কবি বন্দে আলী মিয়ার নামে নামকরণ করা এই মুক্তমঞ্চটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনন্দ সরোবরের পাশে নির্মাণ করা হয়। ২০২২ সালের ৫ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক হাফিজা খাতুন এটি উদ্বোধন করেন। এরপর থেকেই নাটক, সংগীত, বিতর্ক, আবৃত্তি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রধান ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল মুক্তমঞ্চটি।
তবে গত বছরের নভেম্বরে মুক্তমঞ্চের পাশেই এক হাজার শিক্ষার্থী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ১০ তলা আবাসিক ‘জুলাই-৬ হল’ উদ্বোধন করা হয়। হলটিতে শিক্ষার্থীরা ওঠার পর শব্দদূষণের কারণে তাদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে এমন বিবেচনায় মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠান আয়োজন বন্ধ হয়ে যায়।
সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের সাথে কথা বললে তারা জানান, পরিকল্পনা বিহীন ক্যাম্পাসে স্থাপত্যগুলো বানানো হয়েছে। সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য আমাদের একমাত্র উন্মুক্ত মাধ্যম ছিল মুক্তমঞ্চ। আমরা মুক্ত মঞ্চে বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রাম করে এসেছি। হলের পাশে হওয়ায় মানবিক বোধ থেকে মুক্তমঞ্চে আর প্রোগ্রাম করা সম্ভব হয় না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা রুটির এমন যে বছরের প্রায় সর্বদায় কোন না কোন ব্যাচের পরীক্ষা লেগেই থাকে। আমরা আশাবাদী অডিটোরিয়াম উদ্বোধন হলেই আমরা আবার স্বাভাবিক ভাবেই সাংস্কৃতিক চর্চা করতে পারবো।
ব্যান্ড এসোসিয়েসন পাস্টের সদস্য অনিমেষ কুমার ঘোষ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে মুক্তমঞ্চে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ দেখেছি, যেখানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন বিভাগের সৃজনশীল আয়োজন আমাদের ক্যাম্পাসকে মুখর রাখতো। কিন্তু `জুলাই ৬ হল` উদ্বোধনের পর থেকে আবাসিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ রক্ষার জন্য মুক্তমঞ্চের অনুষ্ঠানসমূহ বন্ধ হয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন,আমার দৃষ্টিতে, সঠিক বিকল্প পরিকল্পনা বা সমন্বয়ের অভাবেই আজ এই প্রাণকেন্দ্রটি নিস্তেজ ও স্মৃতি হয়ে পড়েছে। সাংস্কৃতিক চর্চা কেবল বিনোদন নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের বিকাশ ও মানবিক গুণাবলি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। তাই মুক্তমঞ্চের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করা প্রয়োজন, যেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হারিয়ে না যায় এবং শিক্ষার্থীদের সুস্থ চর্চার সুযোগ অবারিত থাকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদুল হক বলেন, “মুক্তমঞ্চের পাশেই আবাসিক হল থাকায় সেখানে উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান আয়োজন করলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থাকে। তবে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজন করা গেলে তা সবার জন্যই ইতিবাচক হবে।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

