রাজধানীর ডেমরায় মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর জিপসাম তৈরীর কারখানা বন্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। রোববার দুপুরে ডিএসসিসির ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল কাইয়ুমের নেতৃত্বে মীরপাড়া-নড়াইবাগ এলাকায় এসব কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।
রাজউক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা সত্বেও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সৈয়দ তানভীর রায়হান নামক ব্যক্তি ওই বেনামি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। বিশেষ করে ওই কারখানায় জিপসাম পাউডার তৈরি বা প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় স্বাস্থ্যঝুঁকি, পরিবেশগত প্রভাব রোধ এবং উপকরণের সীমাবদ্ধতা বজায় রাখেনা বলেই এলাকাবাসীর এ প্রতিবাদ।
মানববন্ধনে আব্দুল্ল কাইয়ুম বক্তব্যে বলেন, বানিজ্যিকভাবে রাজউকের মহাপরিকল্পনাভুক্ত এলাকায় এক তলা সেমিপাকা টিনসেড স্থাপনা করে শিল্প কার্যক্রম পরিচালনা করা বিধি-বিধান ও নগর পরিকল্পনার পরিপন্থী। আর ওই কোম্পানির বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন, রাজউক ও পরিবেশ অধিদপ্তর নিষেধাজ্ঞা দিলেও তোয়াক্কা না করে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কোম্পানির মালিক কৌশলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পাত্র আনলেও পরবর্তীতে এলাকাবাসীর অভিযোগে তা বাতিল করে শিল্পাঞ্চল এলাকায় স্থানন্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে আব্দুল কাইয়ুমসহ বক্তারা আরও বলেন, জিপসাম গুঁড়া বা ধূলিকণা বাতাসে মিলে সহজেই নিঃশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করে। দীর্ঘদিন এমন পরিবেশে কাজ করলে শ্বাসকষ্ট, কাশি ও ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী রোগ হতে পারে। এছাড়া জিপসামের শুকনো পাউডার চোখে গেলে তীব্র জ্বালাপোড়া ও চুলকানি হয়। ত্বকের সংস্পর্শে এলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।
এদিকে কারখানায় পাউডার প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় প্রচুর ধূলিকণা বাতাসে ছড়ায়, যা আশেপাশের পরিবেশ ও বায়ুর মান নষ্ট করে। আর ভারী ধাতু সিন্থেটিক জিপসাম উৎপাদনে বা ব্যবহারে সীসা বা ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর ধাতু মাটিতে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়াও জিপসাম পাউডার দিয়ে তৈরি উপাদান পানি ধরে রাখে এবং আর্দ্র স্থানে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
এ বিষয়ে ডেমরা থানার ওসি মির্জা তাইফুর রহমান বলেন, মানবন্ধনের খবর পরে শুনেছি। তবে বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তর, রাজউক ও সিটি কর্পোরেশনের। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা যেতে পারে।
একুশে সংবাদ/এস/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

