ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন ফুলবাড়ীয়া সুপার মার্কেট-২, ব্লক `এ` সিটি প্লাজা, ব্লক `বি` নগর প্লাজা ও ব্লক `সি` জাকের সুপার মার্কেটের, ডিএসসিসি`র বার বার নির্বাচিত ৩৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জনাব মোঃ মামুন ও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের সম্পর্কে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে এবং জামায়াত শিবির গং পরিচয়ে অবৈধ দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির প্রকৃত ঘটনা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৬জুলাই) রাজধানীর নগর প্লাজায় এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন নগর প্লাজা, ফুলবাড়ীয়া সুপার মার্কেট-২, ব্লক-বি, দোকান মালিক সমবায় সমিতি লিঃ। এটি সমবায় অধিদপ্তর এর জেলা সমবায় কার্যালয় ঢাকায় নিবন্ধিত (নিবন্ধন নং-৩০৪, তারিখ: ০৩/০১/১৯৮২ খ্রিঃ) দোকান মালিকদের সংগঠন। এই সমিতির মাধ্যমেই মার্কেটটি পরিচালিত হয়ে আসছে।
এ সময় লিখিত বক্তব্যে ব্যবসায়ী নেতা মো. কামরুজ্জামান বলেন, বিগত আগস্ট ২০২৪ সালে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার পলায়নের সাথে সাথে মার্কেটের তৎকালীন সভাপতি পলায়ন করলে, মোঃ সুমন, আউয়াল, ফারুক ও হানিফ বাচ্চু গংরা জামায়েতে ইসলামীর কর্মী পরিচয়ে মার্কেট ও সমিতিটি দখলে নেয়। বিগত ২ বছর যাবত মার্কেটটিতে চাঁদাবাজি, অবৈধ দোকান নির্মাণ, জোর পূর্বক অনেক দোকান মালিককে দোকান থেকে উচ্ছেদ, স্থায়ী দোকানসমূহের সামনে ফুটপাতে অনেক দোকান বসানো, লিফট মেরামত ও চালুর কথা বলে টাকা আদায়, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আদায়, ওয়াসা ও বিভিন্ন নামে ও খাতে বিপুল পরিমান টাকা উত্তোলন করেছে। দোকান মালিকদের থেকে উত্তোলিত বিদ্যুৎ বিলের ৪০ লক্ষ টাকা, ওয়াসা বিল ২৮ লক্ষ টাকা এবং লিফট মেরামত ও চালুর কথা বলে ৩০ লক্ষ টাকা বিল পরিশোধ না করে আতত্মসাৎ করে। ৩০/০৬/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রাখায় ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ মার্কেটটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
ইতিমধ্যে মার্কেট কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে জেলা সমবায় কার্যালয়, ঢাকা সমিতির স্বাভাবিক কার্যক্রম ও নির্বাচন পরিচালনার জন্য গত ০৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিঃ তারিখে ০৫ জন সরকারি কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি অর্ন্তবর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়োগ প্রদান করেন। সমিতির দায়িত্বভার হস্তান্তর/গ্রহনের পত্র নিয়ে মার্কেট সমিতির অফিসে গেলে মোঃ সুমন ও হানিফ বাচ্চু গংরা সমবায় কর্মকর্তাদের সাথে অসদাচরণ করেন এবং পত্র গ্রহনে অনীহা প্রকাশ করেন।
পুনরায় মেট্রোপলিটন থানা সমবায় কার্যালয় রমনা, ঢাকা ২৪/০৬/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে সমিতির দায়িত্বভার হস্তান্তর/গ্রহন প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষ সমূহকে অবগত করে এবং অন্তবর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য উপ-পুলিশ কমিশনার, লালবাগ বিভাগ, ডিএমপি ঢাকাকে পত্র দিয়ে পুলিশ নিয়োগের অনুরোধ করেন। ২৯/০৬/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে বংশাল থানার ওসি জনাব এ কে এম মাহফুজুল হক, স্থানীয় বিএনপি`র নেতৃবৃন্দ ও সকল পক্ষের উপস্থিতিতে মার্কেট সমিতির দায়িত্বভার হস্তান্তর/গ্রহন সম্পন্ন হয় এবং প্রায় ২ বছর পর মার্কেটটি অবৈধ দখলদার থেকে মুক্ত হয়।
বর্তমানে মার্কেটটি সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত অন্তবর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। মার্কেটের অবৈধ দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় কথিত জামায়েতে ইসলামী নেতা মোঃ সুমন, হানিফ বাচ্চু গংরা ডিএসসিসি`র বার বার নির্বাচিত কাউন্সিলর জনাব মোঃ মামুন, স্থানীয় বিএনপি`র নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার, উসকানিমূলক ও উদ্দেশ্যেমূলক বক্তব্য প্রদান করছে।
তারা বলেন, আমাদের তিনটি মার্কেটের মধ্যে শুধুমাত্র নগর প্লাজা মার্কেট ছাড়া সিটি প্লাজা ও জাকের সুপার মার্কেটে নিরাপদে ও স্বাভাবিক পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করিতেছি। ফ্যাসীবাদী আওয়ামী সরকারের আমলে ও বার বার নির্বাচিত জনতার কাউন্সিলর জনাব মোঃ মামুন ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনে দল মত নির্বিশেষে সৎ পরামর্শ ও নিরপেক্ষ সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের পাশে থেকে অনুপ্রাণিত করেছেন।
মোঃ সুমন ও হানিফ বাচ্চু গংরা কখনোই কোন কমিটির সদস্য ছিল না এবং বর্তমানেও নাই। এমন কি জনাব মোঃ সুমন এর কোন দোকান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এ মার্কেটে নাই। তাহারা শুধুমাত্র পেশীশক্তি ও মব সৃষ্টির মাধ্যমে মার্কেট সমিতি দখলে রেখে বিভিন্ন খাত থেকে বিপুল পরিমান টাকা আদায় করে আত্মসাৎ করেছে। এ ব্যাপারে দখলবাজীর বাস্তব প্রমান তার নিজস্ব বক্তব্যেই ফুটে উঠে যা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়। সে তার বক্তব্যে চরদখলের মতো পঙ্গপালের মতো লোকজন নিয়ে মার্কেট দখলের পায়তারা করিতেছে।
মোঃ সুমন ও হানিফ বাচ্চু গংরা মার্কেটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, মার্কেটকে ব্যবহার করে নিজস্ব রাজনৈতিক সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং সরকারী স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ করে রাজনৈতিক কালার দেওয়ার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমরা মার্কেটের দোকান মালিক ও সাধারন ব্যবসায়ীরা তীব্র প্রতিবাদ, নিন্দা ও ধিক্কার জানাইতেছি।
গতকাল তারা শান্তি মিছিলের নামে রিকসা ভর্তি করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করার জন্য হকিস্টিক স্ট্যাম্প লোকজনের মধ্যে বিতরণ করেছে। যা ইতিমধ্যে বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে দেশবাসী জেনেছে ও দেখেছে। প্রশাসনের কাছে অনতিবিলম্বে মিথ্যা পরিচয়ে মোঃ সুমন, হানিফ বাচ্চু গংরা মার্কেট সমিতির টাকা আত্মসাৎ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে উসকানীদাতা হিসাবে আইনের আওতায় এনে বিচারের জোর দাবী জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ফুলবাড়িয়া নগর প্লাজা মার্কেটের নেতা গোলাম কিবরিয়া স্বাধীন, রবিউল ইসলাম রুবেল, গাজী মিজানুর রহমান, জাকের সুপার মার্কেটের আব্দুল হান্নান প্রধান, সিটি প্লাজা মার্কেটের মোসলেম উদ্দিন সহ অনেকেই।
একুশে সংবাদ/রাফি/বাবু



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

