নেত্রকোনার মদনে ভুয়া বায়া দলিল দিয়ে দলিল সম্পন্ন করে উপস্থাপন করায় দলিল লেখক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছেন মদন উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার মোঃ জাহিদ হাসান। উক্ত নোটিশে দলিল লেখক রহিছ মিয়াকে সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্যও বলা হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে দলিল লেখক রহিছ মিয়া নিজ ক্ষমতা বলে প্রভাব কাটিয়ে এখনও তার চেম্বারে বসে দাফটের সাথে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২৫ জুন ২০২৬ ইং তারিখে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান দলিল লেখক মো: রহিছ মিয়া যার লেখক সনদ নম্বর ৪৪৭, সাব- রেজিস্ট্রারের কার্যালয়, মদন,নেত্রকোনা কর্তৃক মুসাবিদাকৃত ও প্রস্ততকৃত একটি দলিল উক্ত কার্যালয়ে রেজিষ্ট্রেশন এর জন্য নিয়ে যান। দলিল সম্পাদনকারী পক্ষগণ দাতা ১. ফৌজদার মিয়া, ২. মো: কিশোর মিয়া, ৩. মো: জহিরুল ইসলাম, সর্বপিতা মৃত ইন্নছ আলী, উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অপর দিকে জমির গ্রহীতা মো: আছাব আলী, পিতা মৃত লাল হোসেন একই গ্রামের বাসিন্দা কর্তৃক দাখিল হয়। উক্ত দলিলের ১৯ ও ২০ নম্বর কলামের মাধ্যমে সনাক্তকারী দলিলটি মুসাবিদা ও স্বাক্ষর করেছেন দলিল লেখক রহিছ মিয়া। দলিলটি রেজিষ্ট্রেশন এর জন্য নামজারি ও বায়া দলিলের নকলকপি পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, উক্ত বায়া দলিলের নকল কপি ভুয়া ও বানানো। বায়া দলিলের নকল কপি সম্পর্কে সাব-রেজিষ্ট্রার মোঃ জাহিদ হাসান জিজ্ঞাসাবাদ করিলে দলিল লেখক ও দলিলের পক্ষগণ সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হন। এরই প্রেক্ষিতে সাব-রেজিষ্ট্রার মোঃ জাহিদ হাসান দলিল লেখক রহিছ মিয়াকে ২৮ জুন ২০২৬ ইং তারিখে একটি কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করেন।
এতে আরও বলা হয়েছে, যেহেতু রহিছ মিয়ার এইরুপ কর্মকান্ড নিবন্ধন আইন ১৯০৮, দলিল লেখক (সনদ) বিধিমালা ২০১৪, জেলা রেজিস্ট্রার মহোদয়ের ১৭ আগষ্ট ২০২৫ তারিখের ১০.০৫.৭২০০.০০১.৯৯.০০১.২৫-১১৬১(২৪) নং স্মারকের অফিস আদেশ এবং রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন ও বিধির পরিপন্থী এবং দায়িত্বশীল আচরণ নয়,যেহেতু সরকারি কার্যালয়ের জনস্বার্থে দলিল লেখক রহিছ মিয়ার বিরুদ্ধে কেন আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে না তার স্বহস্তে লিখিত জবাব আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে নিম্ন স্বাক্ষরকারীর কার্যালয়ে উপস্থাপন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়।
পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত রহিছ মিয়া দলিল মুসাবিদাকরণ, প্রস্তুত করণ,লিখন, রেজিষ্ট্রেশন করনে সহায়তার,দলিলের নকল বা তথ্য সংগ্রহে সহায়তা, মূল দলিল ডেলিভারী বা সংগ্রহে সহায়তা, আবেদন বা দরখাস্ত লিখন কার্যক্রম হতে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এদিকে দলিল লেখক রহিছ মিয়া ইতোমধ্যে নোটিশের জবাব দিয়েছেন। তবে অভিযোগ উঠেছে দলিল লেখক রহিছ মিয়া সাব-রেজিষ্ট্রার অফিস কার্যালয়ের সামনে নিজ চেম্বারে বসে তার সহকারীদের দিয়ে সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে ,পদারকোনা মৌজায় ২১০ নং বিআরএস রেকর্ড এর মালিক গোলাম আলী খাঁ ও করিমুন্নেছা ,২৯৮ নং বি আর এস রেকর্ড এর মালিক প্রমোদ চন্দ্র ও জীতেন্দ্র চন্ত্র ,৩৭৭ নং বি আর এস রেকর্ড এর মালিক যতিন্ত্রনাথ ভট্টার্চায্য, নগেন্দ্র চন্দ্র ভট্টার্চায্য ও নিপেন্দ্র চন্দ্র ভট্টার্চায্য. ১৬- ০২-৮৫ ইং দলিল নং ৩১৭, ২৫-০৭-৮৫ ইং দলিল নং ৮০৫, ১৫-০২-৮৬ ইং দলিল নং ৪৯৯ এই তিনটি ভূয়া দলিল দিয়ে ১৩-০৪-২০২৫ ইং তারিখে ২৫-৬৪৩ নং নাম জারি খারিজ খতিয়ান খোলা হয়।
দলিল গ্রহীতা মো: জহিরুল ইসলাম জানান, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। এই জমিটি মূলত আছাব আলীদের দখলে তারাই কাগজপত্র ঠিক করেছে বলে আমাকে জানিয়েছে। এর বেশি আমি জানি না।
এ ব্যাপারে দলিল লেখক রহিছ মিয়াকে তার মোবাইলে ফোন করা হলে রিসিভ করে পরে কথা বলবেন বলে জানান। এর পরে মোবাইল করা হলে আর রিসিভ করেনি। ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে সাব-রেজিষ্ট্রার মোঃ জাহিদ হাসান বলেন, বায়া দলিলের নকল কপি সম্পর্কে দলিল লেখক ও দলিলের পক্ষগণ সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হন। এরই প্রেক্ষিতে দলিল লেখক রহিছ মিয়াকে ২৮ জুন ২০২৬ ইং তারিখে একটি কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়েছে এবং সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতেও বলা হয়েছে। রহিছ সাহেব কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছেন নোটিশটি জেলা রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। পরবর্তি বিষয়টি জেলা রেজিষ্ট্রার স্যার দেখবেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

