মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও বর্তমানে দ্রুত ও কার্যকর বর্জ্য অপসারণকেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন ডিএসসিসির প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে নিরবচ্ছিন্ন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই।
বুধবার নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪ হাজার ৯৫০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর প্রত্যেককের হাতে ৫ হাজার টাকা করে উপহার চেক প্রদান করা হয়। এ সময় প্রশাসক পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অবদানকে নগর ব্যবস্থাপনার অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তাদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
.jpeg)
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নগরীর বর্জ্য অপসারণ বর্তমানে সিটি কর্পোরেশনের এক নম্বর অগ্রাধিকার। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ করা হলেও নাগরিকদের অসচেতন আচরণের কারণে রাজধানীকে সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি নগরবাসীকে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ৭৫টি ওয়ার্ড নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় ১০৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বিশাল নগর এলাকায় প্রতিদিন কয়েক হাজার টন গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক ও অন্যান্য ধরনের বর্জ্য উৎপন্ন হয়।
বিভিন্ন সরকারি ও নগর ব্যবস্থাপনা সূত্র অনুযায়ী, ডিএসসিসি এলাকায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ টন কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ করা হয়। বিশেষ করে ঈদুল আজহার সময় এই পরিমাণ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। ২০২৬ সালের ঈদুল আজহায় মাত্র তিন দিনে ৩৬ হাজার টনেরও বেশি কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে ডিএসসিসি একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
প্রশাসক জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কার আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের যে প্রচলিত ঠিকাদারনির্ভর ব্যবস্থা রয়েছে, তা পরিবর্তন করে ভবিষ্যতে সরাসরি সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালনার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এর ফলে সেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং নাগরিকরা আরও জবাবদিহিমূলক সেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ওয়ার্ডভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্তদের নির্ধারিত সময়ে ময়লা সংগ্রহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নগরের প্রধান সড়কগুলো পরিষ্কার রাখার জন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দুই শিফটে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি বর্জ্য সংগ্রহ ফি আদায় করা হলে কিংবা নিয়মিত ময়লা অপসারণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন প্রশাসক। তিনি জানান, তাদের জন্য আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে এক হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে স্বাস্থ্যসেবা কার্ড দেওয়া হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে ছয় হাজারে উন্নীত করা হবে।
পাশাপাশি আর্থিক সংকটের কারণে কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সন্তান যাতে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্যও সহায়তা দেওয়া হবে। কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনার শিকার হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করবে সিটি কর্পোরেশন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেবল সিটি কর্পোরেশনের একক দায়িত্ব নয়; এর সঙ্গে নাগরিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে রাস্তা, ড্রেন ও খাল-নালায় ময়লা ফেলার কারণে জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলা, উৎস পর্যায়ে বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।
মোঃ আব্দুস সালাম আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণ সচেতন হলে এবং সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে আগামী দুই বছরের মধ্যেই কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণ সিটির চেহারায় দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য নগর গড়তে প্রশাসন এবং নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

