সম্প্রতি দেশজুড়ে জয়বাংলা স্লোগানে মিছিল করছে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও দলের অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এবার ক্ষুদ গণভবনের সামনে জয়বাংলা স্লোগানের মধ্যদিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত যুবলীগ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও নেতাকর্মীকে আটকের খবর পাওয়া যায়নি। সীমানা নির্ধারণ নিয়ে মিছিলের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন মোহাম্মদপুর ও শেরে বাংলা নগর থানার ওসি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১০টায় মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়।
শেরে বাংলা নগর থানা ওসির দাবি, মিছিলটি যেখানে হয়েছে, সেটা শেরে বাংলা নগর থানা এলাকার ভেতরে পড়েনি। অন্যদিকে মোহাম্মদপুর থানা ওসিরও দাবি, মিছিলের স্থানটি মোহাম্মদপুর থানার অধীনে নেই। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টায় ৪০-৫০ জনের একটি দল মোহাম্মদপুরের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজিবের ব্যানার নিয়ে প্রথমে রেসিডেন্সিয়াল কলেজের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু করে। এরপর মিছিলটি সড়ক ঘুরে গণভবনের সামনে মূল ফটক পার করে শেষ হয়।
এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানার ওসি মেসবাহ উদ্দিন বলেন, আমাদের থানা এলাকায় কোনো মিছিল হয়নি। আর এ মিছিল কখন হয়েছে আমাদের জানা নেই। যা দেখলাম এটি শেরে বাংলা নগর থানা এলাকায় হয়েছে। মিছিল থেকে কেউ আটক হয়নি।
আর শেরে বাংলা নগর থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা শুনেছি মিছিলটি সড়কের মাঝখানে হয়েছে। এটি আমাদের থানার মধ্যে পড়েনি। এরপরও বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিতে বলেছি।
অন্যদিকে, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের শাস্তির দাবিতে ঢাকায় মিছিল বের করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সেই ঝটিকা মিছিল থেকে তিন-চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালের মূল সড়কে এ মিছিল বের করা হয়। মিছিল থেকে এক নারীসহ দুজনকে আটক করার কথা জানিয়েছে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ।
আটকরা হলেন- মিজানুর রহমান হাওলাদার (৪০), শামীম আরা বেবি (৫০) ও শামীম হোসেন (৪৮)। শিল্পাঞ্চল থানার ওসি মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, সকাল সোয়া ৯টার দিকে তিন-চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।
কারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গ সংগঠনের লোকজন এটি ঘটিয়েছে। যারা ঘটিয়েছে তাদের মধ্য থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
গুলশান ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা বলেন, প্রগতিশীল নাগরিক সমাজ ব্যানারে আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ জন জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের হাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের প্ল্যাকার্ডও ছিল। তারা ‘প্রতিরোধযোগ্য হাম রোগে নিষ্পাপ সম্ভাবনাময় শিশুদের মৃত্যুর জন্য দায়ী ইউনূস-নূরজাহানদের বিচার এবং মৃত শিশুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার’ দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের উদ্দেশে সেখানে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
তবে এ বিষয়ে ডিএমপির তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কোনো কর্মসূচির তথ্য আমাদের কাছে ছিল না। ব্যানারেও একটু ডিফরেন্ট শব্দ লেখা। ব্যানারে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে নিয়ে হামের টিকার বিষয়ে লেখা ছিল। আমরা তদন্ত করছি।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

