ঈদের ছুটিতে রাজধানী অনেকটাই জনশূন্য। প্রিয়জনের টানে লাখো মানুষ ঢাকা ছেড়ে ছুটেছেন গ্রামের বাড়িতে। এতে নগরীর সড়কগুলোতেও যানবাহনের চাপ অনেক কমে গেছে।
তবে আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। নগরজীবনে বিনোদনের সীমিত সুযোগের কারণে জাতীয় সংসদ ভবনের পাশে অবস্থিত জিয়া উদ্যান এখন ঢাকাবাসীর অন্যতম জনপ্রিয় অবসরযাপনের স্থানে পরিণত হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, জিয়া উদ্যানে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। কোলের শিশু থেকে শুরু করে কিশোর, তরুণ, প্রৌঢ়-সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর পুরো এলাকা। জনসমাগম দেখে মনে হচ্ছিল এটি যেন কোনো বিনোদনকেন্দ্র।
দর্শনার্থীরা লেকের পাড়ে হাঁটছেন, কেউবা উদ্যানের ভেতরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আবার অনেকে মোবাইল ফোনে সেলফি ও ছবি তুলে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন।
নতুন পোশাকে সজ্জিত পরিবার-পরিজনদের নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের অনেকেই দলবেঁধে চটপটি ও আইসক্রিমসহ বিভিন্ন স্ট্রিট ফুড উপভোগ করছেন।
জিয়া উদ্যানকে কেন্দ্র করে আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের আশপাশে বিপুল জনসমাগম এবং যানবাহনের আধিক্য দেখা গেছে। পরিস্থিতি সামলাতে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও ব্যাটারিচালিত রিকশাকে প্রতিটি সিগন্যালে ৫ থেকে ১০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
রাজধানীর তেজগাঁও থেকে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে আসা সরোয়ার আলী জাগো নিউজকে বলেন, ঢাকায় বিনোদনকেন্দ্রের বড্ড অভাব। একসময় শাহবাগের শিশুপার্ক ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার পছন্দের জায়গা ছিল, যা উন্নয়নের নামে গত কয়েক বছর বন্ধ। বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে প্রবেশমূল্য ও প্রতিটি রাইডের ফি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তাই অল্প খরচে পরিবার নিয়ে ঘোরার জন্য জিয়া উদ্যানকেই বেছে নিয়েছি।
তেজগাঁও মনিপুরিপাড়ার রাস্তায় যানজটে আটকে বিরক্ত ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক আমির আলী। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ছেলেমেয়েদের বায়না মেটাতে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম দ্রুত নামিয়ে দিয়ে যাত্রী নিয়ে বের হবো। কিন্তু যানজটে আটকে মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেলো।
উদ্যানে অতিরিক্ত জনসমাগমের সুযোগে স্ট্রিট ফুডের দোকানিরাও তাদের খাবারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। লালবাগ থেকে আসা বশির ও তার বন্ধুরা চটপটি খেতে গিয়ে ১০০ টাকা দাম শুনে হতবাক হন।
সাধারণের সাধ্যের বাইরে অতিরিক্ত দামের কারণে অনেকে খাবার কেনা থেকে বিরত থাকছেন। তবে দোকানিরা বলছেন, তারা ক্রেতাকে দাম বলে তবেই অর্ডার সার্ভ করছেন। কেউ খেতে না চাইলে তাকে বাধ্য করছেন না।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

