AB Bank
  • ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

রাজধানীতে বৃষ্টির হানা, বিপাকে গরুর ব্যাপারীরা


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০১:৪৬ পিএম, ২৬ মে, ২০২৬

রাজধানীতে বৃষ্টির হানা,  বিপাকে গরুর ব্যাপারীরা

ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলো মঙ্গলবার সকাল থেকেই জমে উঠেছিল। ক্রেতাদের ভিড়, গরুর ডাক আর দরদামের কোলাহলে মুখর ছিল শাহজাহানপুর ও কমলাপুর পশুর হাট।

তবে দুপুর গড়াতেই বদলে যায় সেই চিত্র। দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিতে হাটজুড়ে সৃষ্টি হয় দুর্ভোগ। কাদা ও জমে থাকা পানিতে একাকার হয়ে পড়ে হাটের বড় অংশ। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন পশু নিয়ে আসা ব্যাপারীরা।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই হাটে ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে পশু দেখতে আসেন। কিন্তু প্রবল বৃষ্টির পরপরই ক্রেতাদের বড় একটি অংশ দ্রুত হাট ছাড়তে শুরু করেন। বৃষ্টির পানিতে হাটের ভেতরে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে, কোথাও কোথাও পানি জমে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। এতে গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাপারীরা পড়েন চরম ভোগান্তিতে।

শাহজাহানপুর হাটে কুষ্টিয়া থেকে আসা ব্যাপারী আবদুল মালেক গণমাধ্যামকে বলেন, সকাল থেকে ভালো বেচাকেনার আশা ছিল। কয়েকজন ক্রেতা গরু দেখে দামাদামিও করছিলেন। কিন্তু বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর সবাই চলে গেছেন। এখন গরু সামলানোই কষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি জানান, তিনটি ট্রাকে করে ২২টি গরু নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। পরিবহন খরচ, খাবার ও শ্রমিক মিলিয়ে এবার খরচ অনেক বেড়েছে। তার ওপর বৃষ্টিতে গরুগুলো ভিজে যাওয়ায় অসুস্থ হওয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

একই হাটে পাবনা থেকে আসা আরেক ব্যাপারী সাইদুল ইসলাম বলেন, হাটে পানি জমে যাওয়ায় গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন হয়ে গেছে। খড় ভিজে গেছে, গরুকে ঠিকমতো বসাতেও পারছি না। ক্রেতাও কমে গেছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, হাটে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা আর পানিতে হাটের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। এতে ক্রেতারা স্বাভাবিকভাবে বেশিক্ষণ থাকতে চান না।

শাহজাহানপুর হাটের ব্যাপারী মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, সকালে বিক্রি ভালোই হয়েছে। ক্রেতারাও ভালোই আসছিলেন। কিন্তু বৃষ্টি সব নষ্ট করে দিল। এভাবে বৃষ্টি হলে গরু বিক্রি করা কঠিন হয়ে যাবে। গতকালও বৃষ্টি হয়েছিল। আজ সকাল থেকে দুই দফা বৃষ্টি। আমরা গরু এনে বড় বিপাকে পড়ে গেছি।

তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে অনেক গরুর গায়ে ময়লা লেগে গেছে। এতে গরুর সৌন্দর্যও কমে গেছে। গরু বৃষ্টির পানিতে বেশি ভিজলে অসুস্থ হয়ে পড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, কমলাপুর পশুর হাটেও একই চিত্র দেখা যায়। বৃষ্টির সময় অনেক ব্যাপারী ত্রিপল টাঙিয়ে গরু বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ নিজেদের শরীর ভিজিয়ে গরুকে শুকনো রাখার চেষ্টা করছিলেন।

কমলাপুর হাটে সিরাজগঞ্জ থেকে আসা ব্যাপারী মো. মিন্টু মিয়া বলেন, একেকটা গরু নিয়ে আসতে এবার অনেক খরচ হয়েছে। এখন যদি বেচাকেনা না হয় তাহলে বড় লোকসানে পড়তে হবে। বৃষ্টির কারণে দুপুরের পর হাটে ক্রেতা নেই হয়ে গেছে।

তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পরিবহন খরচ কয়েক হাজার টাকা বেশি পড়েছে। সেই খরচ পুষিয়ে নিতে ভালো দামে গরু বিক্রি জরুরি। কিন্তু আবহাওয়ার কারণে সেই আশা কমে যাচ্ছে।

কমলাপুরের আরেক ব্যাপারী জাকির হোসেন বলেন, গরুর শরীর ভিজে গেলে অনেক সময় ঠান্ডা লাগে। তখন খাবার কম খায়। এত কষ্ট করে গরু লালন করে এনেছি, এখন শুধু চিন্তা হচ্ছে অসুস্থ হয়ে যায় কি না।

তিনি বলেন, বৃষ্টির সময় ক্রেতারা ছাউনির নিচে আশ্রয় নিলেও ব্যাপারীদের বেশিরভাগকেই খোলা জায়গায় থাকতে হয়েছে। এতে ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

একই হাটে চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা ব্যাপারী নুর ইসলাম বলেন, দুপুরের পর বৃষ্টির পানিতে পুরো হাট কর্দমাক্ত হয়ে যায়। এতে ক্রেতারা গরুর কাছে আসতে চাইছে না। ঈদের আর মাত্র একদিন বাকি আছে। এখন এমন বৃষ্টি হলে আমাদের সামনে ঘোর বিপদ।

এদিকে, বৃষ্টির মধ্যেও কিছু ক্রেতাকে পশুর হাটে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। তাদের অনেকে বলছেন, বৃষ্টির কারণে হাটে স্বস্তিতে গরু দেখা যাচ্ছে না। আবার কাদা-পানির কারণে পরিবার নিয়ে চলাফেরাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

হাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের আগে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে সাধারণত বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে ভিড় বাড়ে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে মঙ্গলবার সেই চিত্র অনেকটাই বদলে যেতে পারে। বেচাকেনার গতি কমে যাওয়া আশঙ্কা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন ব্যাপারীরা।

বৃষ্টিতে দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর কচুক্ষেত পশুর হাটেও। ঝুম বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাটে আসা ক্রেতা ও ব্যাপারীরা। বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে যায়। বৃষ্টি শেষে গরুর ব্যাপারী ও খামারিরা গরুর শরীর থেকে বৃষ্টির পানি মুছে দেন।

 

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!