সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় নতুন কাঠামো চালু করেছে সরকার। উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয়—এই চার স্তরের কমিটির মাধ্যমে এখন থেকে বদলির কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি স্তরের কমিটি নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করবে এবং প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে শিক্ষকদের বদলি আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তি করবে।
জাতীয় কমিটির সভাপতি থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব। সদস্য হিসেবে থাকবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং সদস্যসচিব থাকবেন মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয় শাখার অতিরিক্ত সচিব। এই কমিটি বদলির আবেদন পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের তদারকি করবে।
বিভাগীয় কমিটির সভাপতি হবেন বিভাগীয় কমিশনার। সদস্য হিসেবে থাকবেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক, দুইজন গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক (সদস্যসচিব)। একই বিভাগের মধ্যে (সিটি করপোরেশন ব্যতীত) বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই করে অনুমোদনের পর আদেশ জারি করা হবে।
জেলা প্রশাসক থাকবেন জেলা কমিটির সভাপতি। সদস্য হিসেবে থাকবেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, দুইজন গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (সদস্যসচিব)। এই কমিটি নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের লটারির মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে পদায়ন করবে এবং বদলির আবেদন নিষ্পত্তি করবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উপজেলা কমিটির সভাপতি থাকবেন। সদস্য হিসেবে থাকবেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, দুইজন গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (সদস্যসচিব)। উপজেলা পর্যায়ের বদলি ও পদায়নের আবেদন এই কমিটির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, যেসব বিদ্যালয়ে আগে প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে শিক্ষক পদায়ন করা হয়েছিল, সেসব বিদ্যালয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারের এই নতুন ব্যবস্থা বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

