পবিত্র রমজান মাসে সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে গরু ও মুরগির মাংস, দুধ এবং ডিম বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের মোট ৪৮টি স্থানে ন্যায্যমূল্যের বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে এসব পণ্য কম দামে পাওয়া যাবে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রমজানকে সামনে রেখে প্রাণিজ খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারদর নিয়ন্ত্রণে করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রমজান মাসে মানুষের আমিষজাত খাদ্যের চাহিদা সহজে পূরণ করতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের যৌথ ব্যবস্থাপনায় মাসব্যাপী সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম, গরুর মাংস ও ড্রেসড ব্রয়লার বিক্রি করা হবে।
এই কর্মসূচির আওতায় রমজানের আগের দিন থেকে ২৫ রমজান পর্যন্ত মোট ২৬ দিন ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি চলবে। নির্ধারিত দামে ড্রেসড ব্রয়লার মাংস প্রতি কেজি ২৪৫ টাকা, পাস্তুরিত দুধ প্রতি লিটার ৮০ টাকা, ডিম প্রতি পিস ৮ টাকা এবং গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬৫০ টাকায় বিক্রি করা হবে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকা শহরের বাইরেও বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী সুলভমূল্যে প্রাণিজ পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেবেন।
প্রাথমিকভাবে ঢাকা মহানগর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় জনগণের চাহিদা বিবেচনায় ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
নির্ধারিত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে—সচিবালয় এলাকা (আব্দুল গনি রোড), খামারবাড়ি (ফার্মগেট), ষাটফুট সড়ক (মিরপুর), আজিমপুর মাতৃসদন, নয়াবাজার, উত্তরা হাউজ বিল্ডিং, রামপুরা বাজার, হাজারীবাগ, আরামবাগ (মতিঝিল), কালশী, মানিকনগর (যাত্রাবাড়ী), শাহজাদপুর (বাড্ডা), কড়াইল বস্তি (বনানী), কামরাঙ্গীরচর, খিলগাঁও রেলক্রসিং, নাখালপাড়া (লুকাস মোড়), সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার, মোহাম্মদপুর বাবর রোড ও বসিলা এলাকা, কাকরাইল, বনশ্রী, মিরপুর-১০, কল্যাণপুর, তেজগাঁও এবং পুরান ঢাকার বঙ্গবাজার এলাকা।
এছাড়া স্থানীয় উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্থায়ী বিক্রয় স্পট নির্ধারণ করে পর্যায়ক্রমে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

