ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) দুই শিক্ষার্থী গুমের ঘটনার সাড়ে ১৩ বছর পেরেও তাদের সন্ধান মেলেনি। শনিবার আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে প্রশাসন ভবনের সামনে গুম হওয়া ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাসকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে শাখা ছাত্রশিবির। এ সময় শাখা সভাপতি মাহমুদুল হাসান, সেক্রেটারি ইউসুব আলী এবং নিখোঁজ ওয়ালিউল্লাহর বড় ভাই খালিদ সাইফুল্লাহসহ দুই শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে ওয়ালিউল্লাহর বড় ভাই খালিদ সাইফুল্লাহ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সেসময় যারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে ছিল, তাদের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের কাজ মোটেই সম্ভব ছিল না। মিডিয়া এবং প্রশাসনের মাধ্যমে যতটুকু জানতে পেরেছি, তৎকালীন প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যোগসাজশেই ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাসকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছিল। যদি ওরা বেঁচে না থাকে, দোয়া করার জন্য ওদের কবরটা আমরা দেখতে চাই। সর্বোচ্চ প্রশাসনের কাছে আমরা চাই, ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাসসহ সারাদেশে যতগুলো গুম হয়েছে, তাদের সন্ধান দেওয়া হোক।”
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, “ওয়ালিউল্লাহ ও আল-মুকাদ্দাস ভাইকে ফেরত পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা সব ধরনের চেষ্টা করেছে। কিন্তু প্রশাসন কতটুকু চেষ্টা করেছে, তা শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। দ্রুত গুম কমিশনের প্রতিবেদন জাতির সামনে প্রকাশ করুন, আমাদের ভাইদের সন্ধান দিন। তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের গুম করা হয়েছে। বর্তমান প্রশাসনও এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অতিদ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, ওয়ালিউল্লাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্স শিক্ষার্থী এবং তৎকালীন শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক ছিলেন। আল-মুকাদ্দাস ছিলেন আল ফিকহ বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রশিবিরের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক। ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে ঢাকা-কুষ্টিয়াগামী হানিফ এন্টারপ্রাইজের ৩৭৫০ নম্বর গাড়িতে ক্যাম্পাসে যাওয়ার পথে আশুলিয়ার নবীনগর থেকে তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করে। এরপর থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ধর্মঘট ও মানববন্ধন করেছেন, কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাদের সন্ধান মেলেনি।
একুশে সংবাদ/এ.জে