যথাযথ পরিচর্যা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে কক্সবাজার ক্রিকেট স্টেডিয়াম দেশের অন্যতম আধুনিক ক্রীড়া ভেন্যুতে রূপ নিতে পারে— এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক আসিফ আকবর।
বুধবার (৪ মার্চ) কক্সবাজার স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে বিসিবির আরেক পরিচালক ও গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর হাবিবুল বাশারের সঙ্গে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
আসিফ আকবর বলেন, আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত গ্যালারি না থাকায় কক্সবাজার স্টেডিয়ামে এখনো বড় দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি মূলত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষায়, কক্সবাজার স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যু হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা থাকলেও দর্শক ধারণক্ষমতা বাড়ানো এখনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। তবে নারী ও বয়সভিত্তিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়মিত আয়োজন করা হচ্ছে, যা ইতিবাচক দিক।
বিসিবি পরিচালক জানান, ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বহুতল স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও এটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে, তবে কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারে নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজন হলেও সেগুলোর যথাযথ প্রচার হয় না। মিডিয়া ও বিসিবির মিডিয়া উইং সমন্বিতভাবে কাজ করলে এখানকার ক্রীড়া কার্যক্রম জাতীয় পর্যায়ে আরও বেশি গুরুত্ব পাবে।
আসিফ আকবর জানান, স্টেডিয়াম উন্নয়নের পাশাপাশি ফাইভ-স্টার হোটেল, অ্যামিউজমেন্ট পার্কসহ একটি সমন্বিত ক্রীড়া ও বিনোদন কমপ্লেক্স গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্পটির নকশা ইতোমধ্যে প্রস্তুত হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়েই বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর হাবিবুল বাশার জানান, চলমান অনূর্ধ্ব-১৮ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট থেকে চারটি দল নির্বাচন করা হবে। এসব দল নিয়ে আয়োজন করা হবে ইউথ ক্রিকেট লিগ (ওয়াইসিএল), যেখানে চারদিনের ম্যাচ ও ৫০ ওভারের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে প্রায় ৬০ জন খেলোয়াড়কে এই প্রতিযোগিতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এখানকার পারফরম্যান্স ভবিষ্যৎ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের দল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, সোমবার (২ মার্চ) ইয়াং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৮ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করেন জাতীয় দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। সে সময় তিনি কক্সবাজার স্টেডিয়ামের সুযোগ-সুবিধাও ঘুরে দেখেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

