নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপের প্রথম জয়ের আশা নিয়ে মাঠে নেমেও সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি কানাডা। টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে স্বাগতিকরা। ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম জয়ের জন্য অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো কানাডার।
ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়াতেই ফলাফলের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ফুটবলাররা উপস্থিত সমর্থকদের অভিবাদন জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অন্যদিকে কানাডার খেলোয়াড়দের মধ্যে হতাশার ছাপ ছিল স্পষ্ট, বিশেষ করে স্ট্রাইকার কাইল লারিনের মধ্যে।
ম্যাচের ২১তম মিনিটে ইয়োভো লুকিচের গোলে এগিয়ে যায় বসনিয়া। পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় কানাডা এবং ৭৮তম মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান কাইল লারিন। তবে ম্যাচের শেষ দিকে জয়ের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করায় আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।
ড্র করলেও এটি কানাডার জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কারণ বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো পয়েন্ট অর্জন করল উত্তর আমেরিকার দেশটি। এর আগে ১৯৮৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ছয়টি ম্যাচের সবকটিতেই পরাজিত হয়েছিল তারা।
অন্যদিকে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার জন্য এটি দ্বিতীয় বিশ্বকাপ আসর। ২০১৪ সালে অভিষেক বিশ্বকাপে একটি জয় পেলেও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল দলটিকে। এবারের আসরে সহ-আয়োজক কানাডার বিপক্ষে ড্র করে ইতিবাচক সূচনা করল ইউরোপের দলটি।
ম্যাচে স্বাগতিক কানাডা অধিনায়ক আলফনসো ডেভিসকে পায়নি। চোটের কারণে বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা খেলতে না পারায় আক্রমণভাগে প্রভাব পড়ে দলের খেলায়।
পুরো ম্যাচজুড়ে দুই দলই খুব বেশি গোছালো ফুটবল খেলতে পারেনি। বলের দখল ও আক্রমণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও খেলা বারবার থেমেছে। ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে ৫৮টি থ্রো-ইন, ১৬টি গোল কিক এবং ১৩টি কর্নার হয়, যা খেলায় ছন্দপতনেরই ইঙ্গিত দেয়।
প্রথমার্ধে সমতা ফেরানোর সুযোগ তৈরি করেছিল কানাডা, তবে বসনিয়ার ডিফেন্ডার সেয়াদ কোলাসিনাক গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করে দলকে রক্ষা করেন। পরে লারিনের গোলে স্বস্তি ফিরলেও শেষ পর্যন্ত আর জয়ের দেখা মেলেনি।
এই ড্রয়ের ফলে ‘বি’ গ্রুপে কানাডা ও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা উভয় দলেরই সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১ পয়েন্ট।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

