AB Bank
  • ঢাকা
  • রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

কুয়েতে নারী শ্রমিক পাচারে রমরমা বাণিজ্য: দালাল চক্রের ফাঁদে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন নারীরা


Ekushey Sangbad
লুৎফুর রহমান, কুয়েত
০৮:৪৫ পিএম, ২ জুলাই, ২০২৬

কুয়েতে নারী শ্রমিক পাচারে রমরমা বাণিজ্য: দালাল চক্রের ফাঁদে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন নারীরা

​মধ্যপ্রাচ্যের সমৃদ্ধ দেশ কুয়েতে তিন লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মী দক্ষতা ও সততার সঙ্গে কাজ করে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখছেন।সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশটিতে বাংলাদেশিদের শ্রমবাজারের চাহিদাকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে একটি অসাধু সিন্ডিকেট। রঙিন স্বপ্নের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার এই অপতৎপরতা এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে নারী গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে একটি অসাধু গোষ্ঠী সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে নারী গৃহকর্মী কুয়েতে পাচার করছে।সরকারি চুক্তির অভাব ও আইনি জটিলতা বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও কুয়েত সরকারের মধ্যে নারী গৃহকর্মী পাঠানোর বিষয়ে কোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক নেই।

যেহেতু কোনো সরকারি চুক্তি নেই, তাই কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস কোনো ‘নারী গৃহকর্মী (খাদ্দামা) ভিসা’ সত্যায়ন করার আইনি এখতিয়ার রাখে না। সুতরাং, বর্তমানে যেসব নারী এই প্রক্রিয়ায় কুয়েতে আসছেন, তাদের পুরো অভিবাসন প্রক্রিয়াটিই সম্পূর্ণ অবৈধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ।

দালালদের প্রলোভনে পড়ে অনেক নারী বাড়ি ঘর বিক্রি করে এমনকি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে কুয়েতে পাড়ি জমাচ্ছেন। কিন্তু দেশটিতে পৌঁছানোর পরই শুরু হচ্ছে তাঁদের দুঃসহ জীবন। চুক্তির শর্তানুযায়ী বেতন না পাওয়া, কাজের পরিবেশ না থাকা, এমনকি অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ নিত্যদিনের।

সম্প্রতি কুয়েতের ফাহাদ আল আহমেদ এলাকা থেকে আমেনা খাতুন নামে এক গৃহকর্মীকে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। উল্লেখ্য, গত তিন মাসের ব্যবধানে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ এমন আরও সাতজন ভুক্তভোগী নারী কর্মীকে উদ্ধার করে দেশে ফেরত পাঠাতে সহায়তা করেছে।

বাংলাদেশ দূতাবাস এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যেকোনো উপায়ে কুয়েতে গৃহকর্মী হিসেবে নারী পাঠানোর কার্যক্রমটি সম্পূর্ণ বেআইনি। দুই দেশের রাষ্ট্র পর্যায়ে সরকারি চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো নারী যেন গৃহকর্মী হিসেবে কুয়েতে আসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করেন। দূতাবাস কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে অসাধু ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

​এদিকে দালালদের মাধ্যমে অবৈধ পন্থায় কুয়েতে এসে অনেক নারী আজ আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। অনেকে শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে খালি হাতে দেশে ফিরে যাচ্ছেন। তাই সচেতনতাই হতে পারে এই করুণ পরিণতি এড়ানোর একমাত্র উপায়।

কুয়েতে বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতারা বলেছেন অনেকেই না বুঝে দালালের মাধ্যমে অবৈধ পন্থায় কুয়েতে এসে আর্থিক, মানসিক ও শারীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে খালি হাতে দেশে ফেরত যেতে হচ্ছে।তাই কুয়েতে আসার ক্ষেত্রে কোন দালাল চক্রের সরনাপন্ন না হয়ে যে কোন কাজ শিখে বৈধভাবে যেন তারা কর্মসংস্থানের জন্য দেশটিতে আসে।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!