মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ছায়া কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে পারস্য উপসাগরীয় দেশ কুয়েত। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের মেঘ সরিয়ে দেশটির শ্রমবাজার ও জনজীবনে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও স্বস্তির নিঃশ্বাস বইছে। বিমানবন্দরের ব্যস্ততা এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে সেই চিত্র স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ১৭ হাজার ৮১৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ক্ষুদ্র অথচ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্রটি দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি শ্রমশক্তির ওপর নির্ভরশীল। প্রায় ৫০ লাখ মানুষের এই দেশে কুয়েতি নাগরিকদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রবাসীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন। কুয়েতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশই অভিবাসী, যাদের বড় একটি অংশ বাংলাদেশি। নির্মাণ, সেবা ও শিল্প খাতে বাংলাদেশিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ কুয়েতের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাবে গত কয়েক মাসে কুয়েতের অর্থনীতিতে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহন ও জ্বালানি রপ্তানিতে বিঘ্ন ঘটায় শ্রমবাজারে সাময়িক মন্দাভাব সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বর্তমানে সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি এবং ঝুঁকি হ্রাস পাওয়ায় কুয়েত সরকার এখন শ্রমবাজারকে আরও সুশৃঙ্খল করতে নতুন নীতিমালা কার্যকর করেছে। সম্প্রতি দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে সংস্কার আনার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন খাতের মধ্যে কর্মী হস্তান্তরের বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি করেছে, যা উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
বর্তমানে কুয়েতের রাস্তাঘাট, বিপণিবিতান ও কর্মক্ষেত্রে পূর্বের বিধিনিষেধ উঠে গিয়ে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে মানুষের মনে যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ ছিল, তা এখন অনেকটাই কাটতে শুরু করেছে। বিশেষ করে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের আসা-যাওয়া বৃদ্ধি এবং নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা এর বড় প্রমাণ। বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা বলছেন, পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্থিতিশীল এবং কর্মক্ষেত্রে আগের মতো আস্থা ফিরে আসছে।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সচেষ্ট থাকায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
কুয়েতের শ্রমবাজারে এই নতুন কর্মচাঞ্চল্য দেশটির অর্থনীতিকে পুনরায় উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিচ্ছে। যদিও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি এখনো সংবেদনশীল, তবুও কুয়েত সরকার যেভাবে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শ্রমবাজারকে গতিশীল রেখেছে, তা প্রশংসার দাবিদার। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে কুয়েতের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো আবারও পূর্ণোদ্যমে শুরু হবে, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

