তেলসমৃদ্ধ দেশ কুয়েতের উত্তপ্ত বালুময় মরুভূমিতে সবুজের বিপ্লব ঘটানো একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে এই মরুদেশকে সবুজে সাজিয়ে তুলছেন সেখানে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
নির্মাণ ও কৃষিখাতের পাশাপাশি কুয়েতের সবুজায়নেও প্রবাসীদের অবদান এখন দেশটিতে প্রশংসার দাবি রাখে। এমনই এক অনুপ্রেরণাদায়ক গল্পের নায়ক কুয়েতের সুয়েখ সানাইয়া এলাকার ‘মসজিদ আল লতিফা’র মুয়াজ্জিন বাংলাদেশি জাফর আহমেদ। গত ১০ বছর ধরে তিনি এই মসজিদে নিষ্ঠার সঙ্গে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছেন এবং ধর্মীয় সেবার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায়ও পালন করছেন অনন্য ভূমিকা।
দীর্ঘদিন কুয়েতে থাকার সুবাদে জাফর আহমেদ মসজিদের আঙিনার পতিত জমিকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা থেকে তিনি পরম মমতায় মসজিদের পাশে রোপণ করেন বেশ কয়েকটি খেজুরগাছের চারা। মরুভূমির রুক্ষ আবহাওয়ায় গাছগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা ছিল বড় এক চ্যালেঞ্জ। কিন্তু জাফর নিয়মিত গাছের গোড়ায় পানি দেওয়া, সার প্রয়োগ এবং কঠোর পরিচর্যার মাধ্যমে সেগুলোকে সতেজ করে তোলেন। তাঁর দীর্ঘদিনের শ্রম ও ধৈর্য বৃথা যায়নি। বর্তমানে তাঁর রোপণ করা গাছগুলোতে প্রচুর পরিমাণে খেজুরের ফলন এসেছে, যা মরুভূমির উত্তপ্ত পরিবেশে এক চমৎকার দৃশ্যের অবতারণা করেছে।
জাফর আহমেদের এই সফলতার খবর এখন আর মসজিদের আঙিনায় সীমাবদ্ধ নেই। মসজিদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর হাতের ছোঁয়ায় বেড়ে ওঠা খেজুরগাছের সবুজ সমারোহ এবং থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা খেজুর দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন স্থানীয় আরব নাগরিকরা। অনেক প্রবাসী ও স্থানীয় বাসিন্দা খেজুরগাছগুলো দেখার জন্য ভিড় করছেন। মসজিদ পরিচালনার পাশাপাশি জাফর আহমেদের এই মহৎ উদ্যোগ কুয়েতপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে।
তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে, সঠিক পরিচর্যা ও আন্তরিকতা থাকলে মরুভূমির বালুচর থেকেও প্রাণের স্পন্দন বের করে আনা সম্ভব।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

