ঢাকা শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. পডকাস্ট

ঢাকায় এক কবর সংরক্ষণ ফি দেড় কোটি টাকা!


Ekushey Sangbad
এসএ পলাশ
১০:০২ পিএম, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৩
ঢাকায় এক কবর সংরক্ষণ ফি দেড় কোটি টাকা!

রাজধানী ঢাকায় সরকারি হিসাবে প্রায় কোটি মানুষের বসবাস। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষ। বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের অধীনে কবরস্থানের নির্ধারিত জায়গা রয়েছে মাত্র ৯টি। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩ টি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় রয়েছে ৬ টি। নির্ধারিত কবরস্থানে নতুন করে আর জায়গা বাড়ানোর সুযোগ নেই। তাই এসব কবরস্থানে কবর সংরক্ষণের ব্যাপারে নিরুত্সাহিত করছে সিটি করপোরেশন। সেজন্য বাড়িয়েছে সংরক্ষণ ফি।

 

গত ১৮ জানুয়ারি উত্তর সিটির কবরস্থানসমূহের জন্য নতুন নীতিমালা অনুমোদন করেন ডিএনসিসির সচিব ড. মোহাম্মদ মাহে আলম। এই নীতিমালায় কবরের নতুন সংরক্ষণ ফি নির্ধারণ করা হয়।

 

নতুন নীতিমালায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) কবরস্থানে ২৫ বছর কবর সংরক্ষণ করতে গুনতে হবে সর্বোচ্চ দেড় কেটি টাকা আর ১৫ বছরের জন্য পরিশোধ করতে হবে এক কোটি টাকা। এতদিন ১৫ বছর কবর সংরক্ষণের জন্য ফি ছিল সর্বোচ্চ ২৪ লাখ টাকা, আর ২৫ বছরের জন্য ছিল ৪৫ লাখ টাকা।

 

তবে নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, ফি বাড়িয়েই কবর সংরক্ষণে নিরুৎসাহিত কিংবা সংখ্যা কমানো যাবে বিষয়টি এভাবে না ভেবে নগরবাসীর জন্য পর্যাপ্ত কবরস্থান তৈরি করতেও সিটি কর্পোরেশনকে উদ্যোগী হতে হবে।

 

এছাড়া সর্বনিম্ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে রায়েরবাজার স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানে কবর সংরক্ষণে। এ কবরস্থানে ১৫ বছর কবর সংরক্ষণের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা এবং ২৫ বছরের জন্য ১৫ লাখ টাকা। যা আগে ছিল ১৫ বছরের জন্য ৬ লাখ এবং ২৫ বছরের জন্য ১১ লাখ টাকা।

 

এছাড়াও উত্তর সিটির সংরক্ষিত কবরে পুনরায় কবর দেওয়ার খরচও বাড়ানো হয়েছে। বনানী কবরস্থানে খরচ বেড়েছে ২০ হাজার টাকা এবং অন্য কবরস্থানে এই খরচ বেড়েছে ১০ হাজার টাকা।

 

বনানী কবরস্থানে সংরক্ষিত কবরে পুনরায় কাউকে কবর দিতে হলে এখন ৫০ হাজার ৫০০ টাকা ফি দিতে হবে। আগে দিতে হতো ৩০ হাজার টাকা।

 

আর বাকি পাঁচটি কবরস্থানে পুনরায় কবর দিতে ফি দিতে হবে ৩০ হাজার ৫০০ টাকা। আগে দিতে হতো ২০ হাজার টাকা।

 

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, “নগরবাসীকে কবর সংরক্ষণে নিরুৎসাহিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সবাই যেভাবে কবর সংরক্ষণ করতে চায় সেভাবে চলতে থাকলে পুরো ঢাকায়ও জায়গা দেওয়া যাবে না। আমাদের কবরস্থানের জায়গা কমে যাচ্ছে।”

 

এদিকে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের বর্ধিত অংশের দেড় একর জায়গা সংরক্ষিত থাকবে; সেখানে শুধুমাত্র প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দাফন করা হবে।

 

এছাড়াও মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত বিশেষ এলাকায় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কবর সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। তবে, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের যে কোন কবরস্থানে কবর সংরক্ষণ করতে পারবে।

 

নীতিমালায় আরও উল্লেখ আছে, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত সাধারণ কবরে ১০ বছর বিনামূল্যে কবর সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে প্রমাণ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত তালিকায় নাম থাকতে হয়। পরবর্তী সময়ের জন্য নির্ধারিত হারে ফি প্রযোজ্য হবে। তবে, কেবলমাত্র রায়েরবাজার স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানে দাফনকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কবর আজীবন সংরক্ষিত থাকবে।

 

এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘অপরিকল্পিত এই শহরে নতুন জায়গা বের করে নতুন কবরস্থান করা কঠিন কাজ। তবে সিটি করপোরেশনের নতুন ওয়ার্ডগুলোতে এখনো সেভাবে স্থায়ী উন্নয়নের কাজ শুরু হয়নি। তাই সেই ওয়ার্ডগুলোতে নতুন জায়গা বের করে কবরস্থান উপযোগী জায়গাকে নির্ধারণ করা গেলে অন্তত ওইসব এলাকায় কবরস্থানের সংকট অতটা আর থাকবে না। একই সঙ্গে বেসরকারি আবাসন কোম্পানিগুলোকেও যদি তাদের প্রকল্পে কবরস্থানের জন্য আলাদা জায়গা নির্ধারন করতে বাধ্য করা যায় তাহলে এই সংকটের অনেকটাই সমাধান হতে পারে।’

 

বর্তমানে উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় ছয়টি কবরস্থান রয়েছে। এগুলো হলো: বনানী কবরস্থান, উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর কবরস্থান, উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থান, উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টর কবরস্থান, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান ও রায়ের বাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থান।

 

সরকারি ফি সহ ঢাকার কবরস্থানগুলোতে মৃতদের দাফন করতে ৬-১০ হাজার টাকা খরচ হয়। সাধারণভাবে এসব কবর ১৫-২০ মাস পর্যন্ত থাকে। তবে কবরস্থানের রক্ষণাবেক্ষণকারীদের বিশেষ বকশিস দিলে তা আরও বেশি দিন অক্ষত থাকে বলে অভিযোগ নগরবাসীর।

 

এছাড়া উত্তর সিটির প্রত্যেকটি কবরস্থানে অগ্রিম কবর সংরক্ষণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।

 

একুশে সংবাদ/এসএপি