কোটচাঁদপুর কলেজ বাসস্ট্যান্ডের খুদরো তরকারি ব্যবসায়ি সরোয়ার উদ্দিন (৬৯)। শুক্রবার সারাদিন বেঁচা-কেনা শেষে রাতে বাড়ি ফেরার পথে ছিনতাইকারীরা ছিনিয়ে নিয়েছেন তাঁর ৫ হাজার টাকা।
যেটি ছিল তাঁর ব্যবসায়ের মূলধন। ওই রাতে ঘটনাটি ঘটেছে কোটচাঁদপুর জালালপুর সড়কের রঘুনাথপুর নামকস্থানে। সে উপজেলার জালালপুর মিয়া পাড়ার মৃত সুরত আলী মন্ডলের ছেলে।
জানা যায়,সরোয়ার হোসেনের বয়স ৬৯ বছর। এরমধ্যে সে তরকারি ব্যবসা করেন ৪৫ বছর ধরে। তবে তাঁর কোন স্থায়ী দোকান নাই। আজ চৌগাছা স্ট্যান্ডে বসলে,কাল কোটচাঁদপুর বাজারের মধ্যে। এভাবেই তিনি রোদ বৃষ্টিতে ভিজে তাঁর ব্যবসাটি করে আসছিলেন।
আর ব্যবসায়িক মূলধনও ছিল ওই ৫ হাজার টাকা মত। সেটিও তিনি জড়ো করেছিলেন ধার দেনা আর স্ত্রী কাছ থেকে নিয়ে। তবে ব্যবয়াসিক লেন দেন ভাল থাকায় তিনি স্থানীয় চৌগাছা বাসস্ট্যান্ডের আড়ৎ থেকে বাকীতে তরকারি কিনে নিয়ে আসেন।
এরপর বেচা-কেনা করে সেই টাকা পরিশোধ করতেন। এ ছাড়া লেন দেন ভাল করায় তাঁর ব্যবসায়িক মুলধনও কম লাগত বলে জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার রাতে ছিনতাইকারীরা তাঁর কাছ থেকে সেই টাকাটি ছিনিয়ে নিয়েছেন। শনিবার যে টাকা আড়তে দিয়ে তিনি তরকারি কিনতে চেয়েছিলেন।
২ ছেলে আর ২ মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে সরোয়ার হোসেনের পরিবার। ছেলে মেয়ের বিয়েও দিয়েছেন ইতোমধ্যে। তারা তাদের মত আয় রোজগার করে চলেন। আর তিনি এই তরকারি ব্যবসা করে যা পান তাই দিয়ে চলে তাঁর সংসার। সম্পদের মধ্যে তাঁর আছে বাড়ি আর মাঠে ৫ কাঠা জমি। তবে জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করেন ওই তরকারি ব্যবসায়ি। যাতে চলে তাঁর চালের খরচ।
এদিকে গেল ৩ মাস ধরে কলেজ বাসস্ট্যান্ডের পানের দোকানদার মতিয়ার রহমানের দোকানের সামনে বসে বেচা-কেনা করছিলেন সরোয়ার হোসেন। সেটিও সম্ভব হয়েছে ওই পানের দোকানদারের অনুরোধে। এর আগে তিনি রাস্তার পাশে রোদের মধ্যে বসে বেচা কেনা করতেন।
মতিয়ার রহমান বলেন,আমি দীর্ঘদিন ধরে তরকারি ব্যবসা করতে দেখেছি। তবে তাঁর কোন স্থায়ী দোকান নাই। এর আগে কোটচাঁদপুরের বেশ কয়েক জায়গায় বসে ব্যবসা করেছেন।
গেল ৩ হল আমি ঘর মালিককে বলে আমার দোকানের সামনে বসতে বলেছিলাম। সেই থেকে এখানেই আছেন। তবে তাঁর সঙ্গে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি খুব দুঃখ জনক।
এ ব্যাপারে সোরয়ার হোসেন বলেন,দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে এই তরকারি ব্যবসা করে আসছি। আমার লেন দেন ভাল হওয়ায় পুজি তেমন লাগে না। তবে যে পুজি দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলা,সেটি ধার দেনা আর আমার স্ত্রীর কাছ থেকে পেয়েছিলাম। আমি প্রতিদিন সকালে বাজারে এসে আড়ৎ থেকে মালামাল কিনে এনে সারাদিন বেচা- কেনা করি।
এরপর পরের দিন আবারও সেই টাকা আড়তে দিয়ে তরকারি নিয়ে থাকি। শুক্রবার সারাদিন বেচে কেনা শেষে বাড়ি ফিরতে রাত ১১ টা বেজে গিয়েছিল। আমি বাইসাইকেল করে রঘুনাথপুর মাঠের মধ্যে পৌছানোর পর বাগানের মধ্য থেকে ৫/৬ জন অপিচিত ছেলে উঠে আসলো।
এরপর তাদের মধ্যে একজন আমার সাইকেলের সামনের চাকায় লাথি মারলে আমি পড়ে যায়। এরপর তারা আমার পকেট ব্যাগে হাত দিতে থাকে। এ সময় তারা পকেটে থাকা ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। এরপর আমি কথা বলতে গেলে তাঁরা আমার মুখ চেপে ধরে মারতে থাকেন।
এরকিছুক্ষন পর তারা চলে গেলে আমি আস্তে আস্তে সাইকেলে নিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটতে থাকি। তারপর আমার পরিচিত একজন কে পেয়ে আমার ছেলের কাছে ফোন করতে বলি। ছেলে ফোন পেয়ে আমাকে বাড়িতে নিয়ে যায়। তবে ঘটনাটি নিয়ে তিনি থানায় কোন অভিযোগ করেনি।
এদিকে গেল ১৬ দিনে কোটচাঁদপুরে ৪ ডাকাতি ছিনতাইয়ের ঘটনায় আতংকিত এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর থানার (ওসি তদন্ত) আনসারুল্লাহ হক বলেন, এ ধরনের কোন ঘটনা আমার জানা নাই।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

