দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) গবেষণা, উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও গতিশীল করতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষণা ল্যাব’ উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে সরকারের গৃহীত উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে এআই গবেষণা ল্যাব ও ‘এআই প্রজেক্ট কম্পিটিশন-২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ছয়টি দলের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আর. কবীর, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মাসুম ইকবাল এবং কম্পিউটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. সারওয়ার হোসেন মোল্লাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, নবপ্রতিষ্ঠিত এআই গবেষণা ল্যাবটি গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন, গবেষণা পরিচালনা, উদ্ভাবনী প্রোটোটাইপ তৈরি এবং শিল্পখাতের উপযোগী প্রযুক্তিগত সমাধান উদ্ভাবনের সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, ব্যবসা, প্রশাসনসহ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মৌলিক পরিবর্তন নিয়ে আসছে। এআই শুধু একটি প্রযুক্তি নয়, বরং ভবিষ্যৎ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও উদ্ভাবনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের ডিজিটাল রূপান্তর কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় জাতীয় এআই নীতি প্রণয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবনে উৎসাহ প্রদান, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করা এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ-উপযোগী দক্ষতায় গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ড্যাফোডিলের মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দক্ষ এআই পেশাদার তৈরি এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান বলেন, “আমরা শুধু একটি এআই-এনাবল্ড বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বরং একটি এআই-নেটিভ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে চাই। যেখানে এআই শুধু একটি প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে না; বরং নিজস্ব উদ্ভাবনের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান তৈরি করবে।”
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, নবপ্রতিষ্ঠিত এআই গবেষণা ল্যাব শিক্ষাঙ্গন, শিল্পখাত এবং সরকারের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করে উদ্ভাবননির্ভর একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে দেশের এআই-নির্ভর ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

