গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় জেলা বিএনপির সভাপতির অপসারণের দাবিতে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে সংবাদকর্মীসহ অন্তত কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে সংবাদকর্মী শাকিল মিয়াকে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
আহত সংবাদকর্মী শাকিল মিয়া জানান, সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করার সময় তাকে মারধর করা হয় এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও বুম কেড়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ময়নুল হাসান সাদিকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে বিএনপির একটি অংশ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে। এর প্রতিবাদে গত শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকালে ডা. সাদিক সমর্থিত নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ৯নং বনগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির কাউন্সিল না করে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র কাউন্সিল ছাড়াই কমিটি গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
এর জেরে রবিবার সকালে ডা. সাদিক বিদ্বেষী উপজেলা বিএনপির একটি অংশ তার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি সাদুল্লাপুর চৌমাথা মোড়ে পৌঁছলে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও এক পর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এসময় উপজেলা বিএনপির কার্যালয় ও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনার পর গোটা উপজেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া অবস্থানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সামছুল হাসান সামছুল অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা বিএনপিকে বিভক্ত করার জন্য একটি চক্র ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তার মোটরসাইকেল ভাঙচুরসহ নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ময়নুল হাসান সাদিক বলেন, “দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে। হঠাৎ কিছু সুযোগসন্ধানী বিভিন্ন দলের সঙ্গে আঁতাত করে নেতাকর্মীদের ভুল পথে পরিচালিত করছে এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারেক রহমানের নির্দেশনায় এ ধরনের ব্যক্তিদের কোনো পদে রাখা যাবে না। আমরা যারা জিয়ার সৈনিক, তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা মেনেই চলব।”
সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজ উদ্দিন খন্দকার জানান, সংঘর্ষে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ করার চেষ্টা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
একুশে সংবাদ/গা.প্র/এ.জে