ঢাকা মঙ্গলবার, ০২ মার্চ, ২০২১, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

নিরাপত্তাহীনতায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার 


Ekushey Sangbad
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
০৫:১৮ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
নিরাপত্তাহীনতায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার 

লালমনিরহাটে সরকারীভাবে বরাদ্দ পাওয়া জমির দখল নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবার।

লালমনিরহাট জেলার আদিতমারি উপজেলার সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম দৈলজোর এলাকার জেল নং-১০৩ খতিয়ান -০১ দাগ ১৫৩৪ জমির ২১.৪১এর মধ্যে ২.১০ একর যুদ্ধাহত  বীরমুক্তিযোদ্ধা মৃত রইস উদ্দিন ফকির ও তার পরিবার ভূমিহীন হওয়ায় ২০১০ সালে সরকারিভাবে বরাদ্দ পান। 

উক্ত জমি মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবার বরাদ্দ পাওয়ার পূর্বে ভোগ করে আসছিলেন আদিতমারি উপজেলার পূর্ব দৈলজোর এলাকার মৃত জেহেদ আলীর পুত্র ইব্রাহীম শেখ(৬৫) নুরু শেখ (৫৫) হামিদ, আবুল কাশেম (৪০) ও তাদের পরিবার। 

সরকারিভাবে জমি বরাদ্দ পাওয়ার  তা ভোগ দখলে নিতে গেলেই উভয় পক্ষে সৃষ্ট হয় দ্বন্দ্ব। উক্ত দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগও দায়ের করেন দুই পক্ষ। 

মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ভূমিহীন হওয়ায় মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা রইস উদ্দিন ফকির বরাদ্দকৃত সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধ দীর্ঘ দিন ধরে চলছে। আদালতে মামলাও চলমান তবে এখনও হুমকিতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা। 

বীরমুক্তিযোদ্ধা মৃত রইস উদ্দিন ফকিরের স্ত্রী বলেন এ জমি আমাদের সরকার দিয়েছে। জমির একাংশে আমাদের বাড়ি আর বাকি দিকটায় চাষাবাদ ও মাছ চাষ করে জিবন চালানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে সঠিকভাবে তা এখনও দখলে নিতে পারিনি আমরা।

প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে এর আগে আমাদের পরিবারের উপর হামলা চালিয়েছিলো। এতে আমার ছেলেরা আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এ বিষয়ে আদিতমারি থানায় অভিযোগ করেছিলাম। পরে আবার জমি সংক্রান্ত মামলা করি, এ বিষয়ে এখানে তদন্তও হয়েছে যাতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে এ জমি আমারা সরকারিভাবে বরাদ্দ পেয়েছি। 

২৯ অক্টোবর ২০২০ তারিখের সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক তদন্ত প্রতিবেদন যার সূত্র স্মারক নং-অজেম্যা/লাল/২০২০/৩৮৯(২)/২০ সূত্রে জানা গেছে খতিয়ান -১ এর ১৫৩৪ দাগে ২১.৪১ একর যা বিন নলিশি কালেক্টর রংপুর নামে রেকর্ড প্রচারিত আছে। তার মধ্যে ২.১০ একর জমি মৃত মুক্তিযোদ্ধা রইস উদ্দিন ফকির ও তার  পরিবার জেলা প্রশাসক কর্তৃক বন্দোবস্ত পায় যার কবুলিয়াত দলিল নং-৬৭৩,৬৭৬,৭৯৫,৬৭৫,৬৭২ এবং এ দলিল গুলো ৩১ জানুয়ারি ২০১৮ এবং কবুলিয়াত দলিল নং-৯১৬ ২১ মার্চ ২০১০ তারিখের। তবে উভয়ের দ্বন্দ্বের কারণে আদালতে একটি মামলা চলমান যার নাম্বার ২৫/২০২০ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা রইস উদ্দিন ফকিরের স্ত্রী বলেন, আদালতে মামলা চলমান তবে এখনও ইব্রাহিম ও তার পরিবারের লোকজন মাঝে মাঝে  দলবল নিয়ে আসে আমাদের হুমকি দেয় বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও মারধোর করার। তিনি বলেন আমি এবং আমার সন্তান রাস্তাঘাট চলাচল করি তবে খুব ভয়ে ভয়ে। আদালতে মামলা চললেও ভয় কমেনি আমাদের, বর্তমানে আমরা নিরাপত্তা হীনতায় চলাচল করি, আমরা শান্তি চাই। 

এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ ইব্রাহিমের পরিবারের এক সদস্যের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, উক্ত জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। আদালত বিচারে যা রায় দিবে তা মেনে নিবো। তবে বর্তমানে মারধোর ও বাড়ি ভাংচুর করার হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করেন।


একুশে সংবাদ/ জা.ব / এস