রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় চাঁদাবাজি ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শ্যুটার তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি এবং তার চার সহযোগীকে তিনটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও সাত রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করেছে মতিঝিল বিভাগ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে মতিঝিলের হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করে মতিঝিল বিভাগ। পরবর্তীতে আরও এক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো - তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি (৪৬), মোহাম্মদ জুয়েল (৪৮) , শাকিল (২৭) , মো. মানিক কাজী (৫০) ও রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজন (৩৫)।
মতিঝিল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের এক ইজারাদার ব্যবসায়ীর অফিস লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ করে। ১৫ মে একই ব্যবসায়ীর কাছে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের হওয়ার পর তদন্তে তানিম রেজা বাপ্পি ও তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

শুক্রবার ১৭ জুলাই সকাল ৭:০০ ঘটিকায় হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তানিম রেজা ওরফে বাপ্পিকে গ্রেফতার করে মতিঝিল বিভাগ। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও তিন সহযোগী জুয়েল, শাকিল ও মানিক কাজীকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ১৭ জুলাই দুপুর ০১:৫০ ঘটিকায় মতিঝিলের উত্তর কমলাপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আরেক সহযোগী রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৭ জুলাই দিবাগত রাতে দক্ষিণ কমলাপুরে বাপ্পির অফিসে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি বিদেশি রিভলভার, দুটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড রিভলভারের গুলি, দুই রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুইটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শক গান এবং একটি বিদেশি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
মতিঝিল বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি একজন অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন গুলিবর্ষণের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। এছাড়া মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। গ্রেফতারকৃত তানিম রেজা বাপ্পির বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যা চেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট সাতটি মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহন ও অন্যান্য সহযোগীকে গ্রেফতার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

