AB Bank
  • ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

সংগ্রামী জীবন থেকে রাজপথের নেতৃত্বে: গুলিবিদ্ধ হয়েও থামেননি সুজন মোল্লা


Ekushey Sangbad
সৃজন সাহা, জবি প্রতিনিধি
১১:১৬ এএম, ৩০ মার্চ, ২০২৬

সংগ্রামী জীবন থেকে রাজপথের নেতৃত্বে: গুলিবিদ্ধ হয়েও থামেননি সুজন মোল্লা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা সুজন মোল্লার রাজনৈতিক জীবন সংগ্রাম, ঝুঁকি ও সাহসিকতার এক দীর্ঘ পথচলার সাক্ষী। ছাত্রজীবন থেকেই সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত এই নেতা একাধিক আন্দোলনে সম্মুখসারীতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, এমনকি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও তার কার্যক্রম থেমে থাকেনি।

২০০৪ সালের অক্টোবরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হওয়ার মাধ্যমে সুজন মোল্লার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। শুরু থেকেই তিনি সচেতন ও দায়িত্বশীল শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে ২০০৯ সালে অনার্স তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার সময় থেকে তার জীবনে রাজনৈতিক নির্যাতনের সূচনা হয়।

২০১৩-১৪ সালের অবরোধ-হরতাল এবং ২০১৫ সালের টানা ৯০ দিনের আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। সে সময় তার অনেক সহযোদ্ধা গুম, খুন ও গ্রেফতারের শিকার হলেও তিনি রাজপথ ছাড়েননি। বরং ঝুঁকিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নেতৃত্বের সক্ষমতা প্রদর্শন করেন।

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পরও তার রাজনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

২০২২ সালের ৩০ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর তার নেতৃত্ব আরও দৃশ্যমান হয়। তার নেতৃত্বে সংগঠনটি পুরান ঢাকা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

২০২৩ সালের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তার ভূমিকা বিশেষভাবে আলোচিত হয়। ধোলাইখালে সংঘর্ষ, ২৮ অক্টোবরের কর্মসূচি এবং পরবর্তী অবরোধ-হরতালে তার নেতৃত্ব সামনে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ—

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯ জুলাইয়ের আগ পর্যন্ত তিনি পরোক্ষভাবে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তার প্রচেষ্টায় প্রতিদিনই সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।

১৬ জুলাই তার গ্রুপের চারজন সহযোদ্ধা গুলিবিদ্ধ হলে তিনি তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। ১৭ জুলাই বাইতুল মোকাররমে গায়েবানা জানাজায় অংশ নেন এবং ১৮ জুলাই রামপুরা এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা—

১৯ জুলাই ঢাকা প্রেসক্লাবমুখী একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় কোর্ট এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আহত অবস্থায় তাকে বহন করার সময়ও হামলার শিকার হতে হয়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। চোখে গুরুতর আঘাত পাওয়ার পরও তিনি সহযোদ্ধাদের পাশে থাকা এবং সংগঠনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন।

চিকিৎসা চলছে বিদেশে—

দীর্ঘ সময় দেশে চিকিৎসা নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তার চোখের ভেতরে প্রতিস্থাপিত সিলিকন অপসারণ এবং পরবর্তীতে লেন্স প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।


একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!