বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের মেধার জয়গান এখন আর নতুন নয়। তবে এই সাফল্যের নেপথ্যে যারা নিরলসভাবে কাজ করছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম শিক্ষা উদ্যোক্তা মো. মাহফুজুর রহমান। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ইউনিক আইএলটিএস’ আজ আইএলটিএস কোচিংয়ের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির একটি আদর্শ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
শিক্ষা যে কেবল বাণিজ্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ নির্মাণের হাতিয়ার—এই বিশ্বাস থেকেই তাঁর পথচলা শুরু। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেন আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই তিনি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
ইউনিক আইএলটিএস-এর অন্যতম আলোচিত দিক হলো এর জনস্বার্থমূলক কার্যক্রম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ ফি-মুক্ত আইএলটিএস প্রস্তুতির সুযোগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শিক্ষার্থীরা এখানে পান—বিনামূল্যে একাডেমিক বই, আন্তর্জাতিক মানের ফ্রি মক টেস্ট, নিয়মিত পারফরম্যান্স মূল্যায়ন এবং স্কলারশিপ-কেন্দ্রিক প্রোফাইল ডেভেলপমেন্ট সুবিধা। অস্বচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এই উদ্যোগ আশার আলো হয়ে উঠেছে।
প্রতিষ্ঠানটি কেবল ব্যান্ড স্কোর অর্জনের কৌশল শেখায় না। মাহফুজুর রহমানের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থায় সফল হতে হলে প্রয়োজন ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ ও গবেষণার অভ্যাস। তাই শিক্ষার্থীদের রিসার্চ পেপার লেখায় উৎসাহ দেওয়া হয় এবং আন্তর্জাতিক জার্নাল ও কনফারেন্সে অংশগ্রহণের প্রস্তুতিও করানো হয়।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ৯৮৩ জন শিক্ষার্থী এখান থেকে আইএলটিএস সম্পন্ন করেছেন এবং ২১৩ জন শিক্ষার্থী বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসা পেয়েছেন। শিক্ষার্থীদের এসওপি গাইডলাইন, স্কলারশিপ আবেদন ও প্রোফাইল ডেভেলপমেন্টে প্রতিষ্ঠাতার ব্যক্তিগত তদারকি এই সাফল্যের অন্যতম কারণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তরুণদের উদ্দেশ্যে মাহফুজুর রহমান বলেন, “আইএলটিএসকে শুধু একটি পরীক্ষা হিসেবে নয়, বরং আপনার একাডেমিক ও পেশাগত জীবনের ভিত্তি হিসেবে দেখুন। নিয়মিত পড়াশোনা ও গবেষণার অভ্যাস আপনাকে বিশ্বমানের শিক্ষার জন্য প্রস্তুত করবে।”
তিনি জানান, সামনে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপ ও গবেষণামুখী প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রসারের নীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশীয় মেধাকে বৈশ্বিক সম্পদে রূপান্তর করাই তাঁর লক্ষ্য।
ইউনিক আইএলটিএস এখন শুধু একটি কোচিং সেন্টার নয়; এটি এমন এক শিক্ষা উদ্যোগ, যা মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার দরজা খুলে দিচ্ছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

