প্রথম রক্ত দিয়েছিলেন নিজের চাচিকে। এরপর আরো ১৯ বার রক্ত দিয়েছেন তিনি। বলছিলাম রক্ত সৈনিক শফরুলের কথা। গত ৬ বছরে এমন কোনো বছর নেই শফরুল রক্ত দান করেননি। তিনি এখন বাঁধন সরকারি বাঙলা কলেজ ইউনিটের উপদেষ্টা।
নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে শফরুলের শৈশব কেটেছে গ্রামে। বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার বড়াকোঠা ইউনিয়নের চাউলাহার গ্রামে বাড়ি তার। শফরুল রাজধানীর সরকারি বাঙলা কলেজে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত।
প্রথমবার রক্তদানের গল্পঃ শফরুল বলেন, ২০১৭ সালের ৯ মার্চ চাচি হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেদিন রাত ৯টায় হাসপাতাল থেকে খবর আসে ‘পাঁচ ব্যাগ বি পজিটিভ রক্ত লাগবে’। তখন আমি নিজের রক্তের গ্রুপই জানতাম না। সেদিন আমাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সৌভাগ্যক্রমে আমার রক্তের গ্রুপ মিলে যায়। সেদিন আমি প্রথমবার রক্তদান করি।
২০ তম রক্তদানের গল্পঃ শফরুল বলেন, আমরা যারা বাঁধন কর্মী, আমাদের রক্তদানের সময় হলে নিজ উদ্যোগেই রক্ত দিয়ে থাকি। সেটা রাত ২টার সময়ও যদি কোনো রোগীর রক্তের প্রয়োজন হয় আমরা হাসপাতালে ছুটে যাই। গত ২০২২ সালের ২২ অক্টোবর ২০ তম বার রক্ত দান করেছি। ২০ তম রক্ত দিয়েছি একজন ক্যান্সার আক্রান্ত সেনা সদস্যকে। রাত ৮ টায় একটি কল আসে আমার মোবাইলে। জরুরি এক ব্যাগ বি পজিটিভ রক্ত লাগবে ঢাকা সিএমএইচে। ফোন পেয়ে ছুটে যাই হাসপাতালে এবং রাত ১০ টায় তাকে রক্ত দেই।
যেভাবে রক্তদানে অনুপ্রাণিত হলেনঃ তিনি বলেন, রক্তদানের অনুপ্রেরণা হিসেবে জানতাম যে রক্তদান করলে কোনো ক্ষতি নেই। কারণ, রক্তের উপাদানগুলো ৩ মাস পরপর স্বাভাবিকভাবে নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তীতে পুনরায় রক্তের কণিকা শরীরে তৈরি হয়। এছাড়া নিয়মিত রক্তদান করলে নিজের শরীর রক্তের ৪ থেকে ৫টা পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যায়। একজন অসহায় মানুষকে রক্তদানের মাধ্যমে যে আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায় তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে একজন অসুস্থ রোগীকে সুস্থ করে তোলা যায়। একজন রক্তদাতা হিসেবে এটাই আমার কাছে বড় অনুপ্রেরণা। এছাড়া আমার নিজের ভাইয়েরা সবাই নিয়মিত রক্তদান করে। তাদের দেখেও অনেকটা অনুপ্রাণিত হতাম।
রক্তদানে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাঃতিনি বলেন যতদিন আমি রক্তদানে সক্ষম থাকব, ততদিন অসহায় মানুষকে রক্তদান করব। রক্তদান নিয়ে আমার প্রাথমিক ইচ্ছা- ১০০ তম বার রক্ত দিব। তবে রক্তদানে ইচ্ছুক এমন সবাইকে নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো সংগঠন খোলার ইচ্ছে নেই। বাঁধন সরকারি বাঙলা কলেজ ইউনিটকে আরো সম্প্রসারিত করে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে।
রক্তদানে শফরুলের সম্মাননাঃ রক্ত দান করে শফরুল পেয়েছেন সম্মাননা ও বাহবা। তিনি বলেন, ২০২১ সালে বাঁধন সরকারি বাঙলা কলেজ ইউনিটেরর হয়ে আটবার রক্ত দান করে সেরা রক্তদাতা পুরস্কার পেয়েছি।
নবীন রক্ত যোদ্ধাদের উদ্দেশ্য শফরুলঃ যারা রক্ত দান করতে চাই না তাদের উদ্দেশ্য শফরুল বলেন, সাধারণত একজন পুরুষ ১৮ বছর এবং ৫০ কেজি ওজন হলে ও একজন নারী ১৮ বছর এবং ৪৭ কেজি ওজন হলে রক্তদান করতে পারে। আমাদের মধ্যে অনেকে আছেন যারা রক্তদানে উপযুক্ত কিন্তু তারা রক্তদান করে না। তাদেরকে বলব, আপনার স্বেচ্ছায় রক্তদান করুন। এতে শরীরের কোনো ক্ষতি হবে না, বিপরীতে উপকার হবে। পাশাপাশি একজন অসহায় মানুষকে রক্তদান করে আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়।
একুশে সংবাদ.কম/সম



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

