ব্যস্ত নগরজীবনের ফাঁকে একটু প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে কে না চায়! কিন্তু সময়ের সীমাবদ্ধতায় দূরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না।
এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীর খুব কাছেই এক দিনের দারুণ ভ্রমণ হতে পারে মাওয়া ঘাট। পদ্মার বিশাল জলরাশি, নির্মল বাতাস আর বিখ্যাত ইলিশ—সব মিলিয়ে এটি হতে পারে স্বল্প সময়ে মন ভরানোর আদর্শ গন্তব্য।
মাওয়া ঘাটে গিয়ে নৌকা বা ট্রলার ভাড়া করে পদ্মার বুকে ভেসে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা সত্যিই অনন্য। হাতে একটু বেশি সময় থাকলে নদীর বুকজুড়ে সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্যও উপভোগ করা যায়, যা দীর্ঘদিন স্মৃতিতে গেঁথে থাকবে।
ফেরিঘাটের উত্তর পাশ ধরে নদীতীরের পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে একদিকে দেখা মিলবে বিস্তীর্ণ পদ্মার রুপালি জলরাশি, অন্যদিকে সবুজে মোড়া গ্রামীণ জনপদ। ইচ্ছা করলেই ঢুকে পড়তে পারেন গ্রামের ভেতর।
গাছপালায় ঘেরা শান্ত-নিরিবিলি পরিবেশ, কাঁচা পথ আর প্রকৃতির স্নিগ্ধতায় যেন ফিরে পাওয়া যায় বাংলার চিরচেনা গ্রামের রূপ। শহরের কোলাহল ও যান্ত্রিক জীবন থেকে কিছুটা সময়ের জন্য মুক্তি পেতে এমন পরিবেশ সত্যিই প্রশান্তিদায়ক।
মাওয়া ঘাটের আরেকটি বড় আকর্ষণ পদ্মার তাজা ইলিশ। নদীর পাড়ের রেস্তোরাঁগুলোতে সদ্য ধরা ইলিশ ভাজা কিংবা নানা পদের ইলিশের স্বাদ নিতে প্রতিদিনই ভিড় করেন অসংখ্য ভোজনরসিক। পদ্মার ইলিশের আসল স্বাদ উপভোগ করতে চাইলে মাওয়া হতে পারে সেরা ঠিকানা।
মাওয়ার আকর্ষণকে আরও অনন্য করে তুলেছে দেশের গর্ব পদ্মা সেতু। প্রকৌশল দক্ষতা ও সক্ষমতার প্রতীক এই সেতু শুধু দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তই উন্মোচন করেনি, বরং পদ্মাপাড়কে পরিণত করেছে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে।
প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ আসেন পদ্মা সেতু একনজর দেখতে, ছবি তুলতে এবং নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে। বিশেষ করে সন্ধ্যায় আলোকসজ্জায় সজ্জিত সেতুর দৃশ্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
যেভাবে যাবেন
রাজধানীর গুলিস্তান থেকে দিনের প্রায় সব সময়ই মাওয়াগামী বাস পাওয়া যায়। ইলিশ পরিবহন, গাঙচিল পরিবহন এবং বিআরটিসির এসি বাসসহ বিভিন্ন পরিবহনে সহজেই পৌঁছে যেতে পারবেন মাওয়া ঘাটে। ব্যক্তিগত গাড়িতেও অল্প সময়েই এই গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

