জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় চোরাই ইজিবাইক কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে অপহরণ, নির্যাতন এবং বিষজাতীয় পদার্থ খাইয়ে হত্যার অভিযোগে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে কালাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে।
মামলার বাদী উপজেলার শাইলগুন পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো. আজাদুল ইসলাম। তিনি নিহত আব্দুল হান্নান সরকারের ছেলে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা হলেন— শাইলগুন দরগাপাড়া গ্রামের মো. আজিজুল ইসলাম (৩০), শাইলগুন উত্তরপাড়া গ্রামের মো. তহিদুল ইসলাম (৪০), শাইলগুন ফকিরপাড়া গ্রামের মো. বাবুল (২৮), মাত্রাই সোনারপাড়া গ্রামের মো. বাবুল (৩৫), শাইলগুন পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো. মুসী (৪০) এবং শাইলগুন পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো. নাহিদ ইসলাম (২৮)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাঁর চাচা মো. বকুল সরকার ৫০ হাজার টাকায় একটি ইজিবাইক কিনেছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, সেটি চোরাই। এরপর ইজিবাইকটি ফেরত দিয়ে টাকা চাইলে বিক্রেতারা টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো ডিবি পুলিশকে খবর দিয়ে তাঁর চাচাকে ইজিবাইকসহ আটক করান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, গত ১৯ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাত্রাই বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মশপুকুরা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আব্দুল হান্নান সরকারকে অপহরণ করে মাত্রাই গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর, জুতার ফিতা দিয়ে অণ্ডকোষ বেঁধে নির্যাতন এবং জোরপূর্বক বিষজাতীয় পদার্থ খাওয়ানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছে, ২০ জুলাই রাত ১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল হান্নান সরকার স্থানীয় মোফাজ্জল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে ফোন করে বলেন, ‘ভাই, আমাকে বাঁচান। আমাকে কিছু খাইয়ে হাত-পা বেঁধে পুকুরপাড়ে ফেলে রেখে গেছে। আমি মনে হয় আর বাঁচব না। পরিবারকে খবর দেন।’
ফোন পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হাত, পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
বাদীর দাবি, উদ্ধার করার সময় তাঁর বাবা ঘটনার জন্য এজাহারভুক্ত আসামিদের দায়ী করেন এবং সেই বক্তব্য মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়।
নিহতের বাবা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়েছে। মামলার পর একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

