মাঠে বল গড়াতে আর ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় বাকি। চার বছর পরপর বিশ্বকাপ ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হওয়ার কথা, ২০২৬ আসরকে ঘিরে সেই উত্তেজনার পাশাপাশি দেখা দিয়েছে নতুন এক বিতর্ক। ফুটবলের চেয়ে বেশি আলোচনায় এখন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসননীতি ও ভিসা জটিলতা।
সর্বশেষ আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন সোমালিয়ার আন্তর্জাতিক রেফারি ওমর আরতান। বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার জন্য ফিফার নির্বাচিত তালিকায় থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে তাকে দেশে ফিরতে হয়েছে।
২০২৫ সালে কাফ চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল পরিচালনা এবং অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন আরতান। পরে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (কাফ) বর্ষসেরা পুরুষ রেফারির স্বীকৃতিও পান।
এই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য তাকে নির্বাচিত করা হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর মায়ামি বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদের পর শেষ পর্যন্ত তাকে ফেরত পাঠানো হয়।

আরতানের দাবি, তার ভিসা ও প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র বৈধ ছিল।
তিনি বলেন,"প্রত্যেক রেফারির স্বপ্ন বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করা। নির্বাচিত হওয়ার পর মনে হয়েছিল বছরের পর বছরের পরিশ্রম সফল হয়েছে।"
হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু গিলিয়ানি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস ও বর্ডার প্রোটেকশনের সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থন করেন। তবে ব্যক্তিগত মামলার বিস্তারিত বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
ঘটনাটি ফিফাকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। মানবাধিকার সংগঠন FARE-এর নির্বাহী পরিচালক পিয়ারা পাওয়ার বলেন,"ফিফার একজন অফিসিয়াল রেফারিকে এভাবে প্রবেশে বাধা দেওয়া নজিরবিহীন ঘটনা। এতে প্রশ্ন উঠছে—বিশ্বকাপ পরিচালনা করছে ফিফা, নাকি যুক্তরাষ্ট্র সরকার?"
ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার ইয়ান রাইটও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন,
"প্রতি কয়েক ঘণ্টা পরপর নতুন সমস্যা সামনে আসছে। দর্শক, খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, সাংবাদিক, এখন রেফারি—এ যেন বিশৃঙ্খলার বিশ্বকাপ।"
২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে দর্শকদের জন্য ফ্যান আইডি এবং ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে হায়া কার্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবেশ সহজ করা হয়েছিল।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপে টিকিটের উচ্চমূল্য, আবাসন ব্যয় এবং কঠোর অভিবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনা রয়েছে। স্টেডিয়াম এলাকায় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিও অনেক সমর্থকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কয়েকজন ব্যাকরুম স্টাফ ভিসা না পাওয়ার অভিযোগ করেছে দেশটি। তাদের যাতায়াত নিয়েও বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলা হয়েছে।
তবে এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়গুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়।
ফিফা জানিয়েছে, কোনো দেশের ভিসা বা অভিবাসন নীতির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দল ও কর্মকর্তাদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ফুটবলের বাইরের বিষয়গুলোই বেশি আলোচনায় এসেছে। কঠোর অভিবাসন নীতি, ভিসা জটিলতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে আয়োজক দেশের সিদ্ধান্ত ও ফিফার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
তবে এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। মাঠের প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার পর এসব বিতর্ক কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

