সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই ও শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে হাত বাড়ালে পাওয়া যায় দেশি তৈরি চোলাই মদ। দুই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মুচি বাড়ী ও নির্জন স্থানে সন্ধ্যা নামলে বসে মদের আসর। তাই জনশ্রুতি রয়েছে মদে। মদের সাগরে বাসছে দিরাই- শাল্লা মাতাল।
শাল্লা উপজেলার হাওর পাড়ের নারিকেলা, চিকাডুপি ও দিরাই উপজেলার শ্যামারচর বাজার, রাজানগর মুচি বাড়ী,ও ফাতেমা নগর মুচি বাড়ী, গচিয়া বাবাশাহ মোকামের পাশের মুচি বাড়ী, মকসদপুর মুচি বাড়ী,ছাদিরপুর মুচি বাড়ী সহ শান্তিগঞ্জ উপজেলার বহুল পরিচিত পাথারিয়া ও ঠাকুরভোগ মুচি বাড়ী, থেকে প্রতিদিন দিরাই মদনপুর রোডে লোকালয়ে প্রবেশ করছে হাজার-হাজার লিটার চোলাই মদ।
এ মদ ট্যাক্সি, রিকশাসহ নানা যানবাহনে খুচরা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ছড়িয়ে যাচ্ছে দিরাই- শাল্লায় ও শান্তিগঞ্জ উপজেলায়। মাদকের আগ্রাসনে দিরাই -শাল্লাহ সুনামগঞ্জ জেলাজুড়ে ধ্বংস হচ্ছে যুবসমাজ। এতে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা মাদকের আসক্তি হয়ে পড়ায় অভিভাবক মহল উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। মাদক সেবনকারী গ্রেপ্তার হলে ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে মাদক বিক্রতা ও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা সাধারণ জনগণের অভিযোগ।
জানা যায়, এ মদ ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েকবার দুই উপজেলার মুচি বাড়ীতে আগত মাতালদের তুমুল ঝগড়া বিবাদ ও হয়েছে। । গত কয়েকবছর ধরে এ মদ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে শাল্লার নারিকেলা ও চিকাডুপি গ্রামে প্রাণঘাতীর মধ্যে সংঘর্ষ সংঘটিত হয়েছে। প্রতিদিন বিশেষ করে নারিকিলা গ্রাম হতে শ্যামারচর বাজার দিয়ে অবিনভ কায়দায় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে দৈনন্দিন লাখ লাখ টাকার মাদক পাচার হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ মাদক পাচার কাজে মহিলা, দিনমজুর, ছোট ছেলেদের ব্যবহার করছে বলে স্থানীয় লোকজন জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাল্লা উপজেলা হাওর পাড়ের নারিকেলা, চিকাডুপি ও দিরাই উপজেলার শ্যামারচর বাজার, রাজানগর মুচি বাড়ী,ও ফাতেমা নগর মুচি বাড়ী, গচিয়া বাবাশাহ মোকামের পাশের মুচি বাড়ী, মকসদপুর মুচি বাড়ী,ছাদিরপুর মুচি বাড়ী সহ শান্তিগঞ্জ উপজেলার বহুল পরিচিত পাথারিয়া ও ঠাকুরভোগ মুচি বাড়ীতে তৈরী হয় দেশীয় চোলাই মদ।
দিরাই ও শাল্লা থানার পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্ছার ও শক্ত অবস্থানে থাকলেও থেমে নেয় মদ, গাঁজা, ইয়াবাসহ সব ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য পাওয়া যায় ওই সিন্ডিকেটের কাছ থেকে। দিরাইয়ের প্রাণকেন্দ্র বাসের স্টেশনে সন্ধ্যা নামতেই গাড়ীর চালক ও হেলপারদের কাছে পায়ে হেটে ইয়াবা বিক্রির দৃশ্য ও ইদানীং দেখা যাচ্ছে। পুলিশ মাদক পাচার রোধে যে কৌশলে অভিযান পরিচালনা করে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে মদ পাচারকারীরা।
এ মদ ব্যবসীয়দের অত্যাচার নির্যাতনে উপজেলার সাধারণ মানুষের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। এ নিয়ে উপজেলায় গত দুই বছরে অনেকবার মারামারির ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় লোকজন এসব মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করে যুব ও তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করার জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
দিরাই থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যেকোনো উপায়ে দিরাই থানা মাদক মুক্ত করা হবে। আমি আশার পর থেকে অনেক মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে নাতে ধরে আদালতে প্রেরণ করেছি। শাল্লার থানার অফিসার ইনচার্জ রকিবুজ্জামান বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে আমার থানা পুলিশ। কালকে আমরা মাদক কারবারীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছি।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

