ঘরের মাঠে দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটানোর স্বপ্ন দেখছিল মরক্কো। তবে নাটক, বিতর্ক ও উত্তেজনায় ভরা আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সের ফাইনালে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছে সেনেগাল। অতিরিক্ত সময়ে পাপে গুয়েইর একমাত্র গোলে মরক্কোকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। তবে নির্ধারিত সময়ের যোগ করা আট মিনিটের শেষ দিকে ঘটে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। ভিএআর পর্যালোচনার পর কঙ্গোলিস রেফারি জ্য-জ্যকস এনদালা মরক্কোর পক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। সেনেগাল ডিফেন্ডার এল হাদজি মালিক দিওফ ব্রাহিম দিয়াজকে ফাউল করেছেন—এমন রায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সেনেগালের একাধিক খেলোয়াড় মাঠ ছাড়েন।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে গ্যালারিতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে দর্শকদের একাংশ চেয়ার ও বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারলে পরিস্থিতি সামাল দিতে খেলা বন্ধ থাকে প্রায় আধঘণ্টা।
খেলা পুনরায় শুরু হলে পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন রিয়াল মাদ্রিদের উইঙ্গার ব্রাহিম দিয়াজ। তবে পানেনকা শটে নেওয়া তার প্রচেষ্টা সহজেই ঠেকিয়ে দেন সেনেগাল গোলরক্ষক এদুয়ার্দো মেন্দি। এই ব্যর্থতার পর ম্যাচের গতি ঘুরে যায় সেনেগালের পক্ষে।
অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে ইদ্রিসা গানা গুয়েইর পাসে ভিয়ারিয়াল মিডফিল্ডার পাপে গুয়েই নিখুঁত শটে জাল কাঁপান। তার সেই গোলেই স্তব্ধ হয়ে যায় অর্ধলক্ষাধিক স্বাগতিক দর্শক।
ম্যাচ শেষে গোলদাতা পাপে গুয়েই বলেন, “আমরা সর্বোচ্চটা দিয়েছি। ম্যাচটি কঠিন ছিল, কিন্তু জয়ের ব্যাপারে আমরা দৃঢ় ছিলাম। আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে আমরা গর্বিত।”
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে মরক্কোর সমতা ফেরানোর সুযোগও এসেছিল। নায়েফ আগুয়ার্দের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে গেলে স্বাগতিকদের হতাশা আরও গভীর হয়। এতে স্পষ্ট হয়ে যায়, ফাইনালের ভাগ্য মরক্কোর পক্ষে নয়।
ম্যাচ শেষে মরক্কোর কোচ প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানালেও বিতর্কিত পেনাল্টি সিদ্ধান্তের পর মাঠের পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তার মতে, এসব ঘটনা আফ্রিকান ফুটবলের ভাবমূর্তির জন্য সুখকর নয়।
এই জয়ের মাধ্যমে ২০২২ সালের পর ফের আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরল সেনেগাল। তিন বছরের ব্যবধানে এটি তাদের তৃতীয় মহাদেশীয় শিরোপা।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

