ঢাকা শনিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২২, ১৬ মাঘ ১৪২৮

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

তৃতীয় দিন শেষে ৮৩ রানে লিড নিয়েও স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ


Ekushey Sangbad
ক্রীড়া প্রতিবেদক
০৫:৪৭ পিএম, ২৮ নভেম্বর, ২০২১
তৃতীয় দিন শেষে ৮৩ রানে লিড নিয়েও স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ
ছবি: একুশে সংবাদ

ছবি: একুশে সংবাদ

চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিনটা নিজের করে নিয়েছেন বাংলাদেশের স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তবে শেষ বিকেলে বাংলাদেশকে হতাশ করেছে ব্যাটাররা। ৪৪ রান লিড নিয়ে শেষে বিকেলে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে ৩৯ রান তুলেছে। ফলে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ৮৩ রানে লিড নিয়েও স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ। ১২ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন মুশফিক, ৮ রানে ব্যাট করছিলেন ইয়াসির আলী।

 

৪৪ রানের লিড নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই সাদমানকে হারায় বাংলাদেশ। এই ওপেনার রান করেছেন মাত্র ১। এক বল পরেই তিনে নামা শান্ত বাইরের বল ছোঁয়াতে গিয়ে স্লিপে থাকা আব্দুল্লাহ শফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ডাক মেরেছেন। পরের ওভারে হাসান আলীর শেষ বলে ঘুরিয়ে খেলতে গেলে মুমিনুলের ব্যাটের কানায় লেগে মিডউইকেটে থাকা আজহার আলীর হাতে ক্যাচ চলে যায়। 

 

প্রথম ইনিংসে দারুণ ব্যাটিং করে ৯ রানের আক্ষেপ নিয়ে সেঞ্চুরি করা হয়নি মুশফিকের। হতাশা নিয়ে প্রথম ইনিংসে মাঠ ছাড়লেও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে একটি রেকর্ড গড়েছেন মুশি। ওপেনার তামিম ইকবালকে ছাড়িয়ে টাইগারদের হয়ে টেস্টের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক এখন তিনি। ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুহূর্তে ব্যাট করতে নেমে এ কীর্তি গড়েন মুশফিক। ৬৪ ম্যাচে ১২৩ ইনিংসে ৪৭৮৮ রান নিয়ে এতদিন শীর্ষে ছিলেন তামিম। ৭৬ ম্যাচের ১৪০তম ইনিংসে তাকে ছাড়িয়ে গেলেন মুশি। তিনে থাকা সাকিব আল হাসান ৫৮ ম্যাচে ১০৭ ইনিংসে করেছেন ৩৯৩৩ রান।  

চা বিরতির ঠিক পরেই বিদায় নেন সাইফ। শাহিন আফ্রিদির শর্ট বলে মুখ বাঁচাতে হাত বাড়িয়ে দেন সাইফ, কিন্তু বল তার ব্যাটের উপরের অংশে লেগে উপরে উঠে যায়, নিজেই ক্যাচ ধরেন শাহিন। সাইফ বিদায়ের আগে করেন ১৮ রান। বাকি সময়টা দাঁতে দাঁত চেপে কাটিয়ে দেন মুশফিক ও ইয়াসির আলী।

এর আগে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বিনা উইকেটে ১৪৫ রান করা পাকিস্তান তৃতীয় দিনের শুরুতেই এক রান যোগ করতে দুই উইকেট হারায় পাকিস্তান। দিনের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে তাইজুলের বলে এলবির শিকার হন ওপেনার আব্দুল্লাহ শফিক। তিনি ১৬৬ বলে ২টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫২ রান করেন। পরের বলেই নতুন ব্যাটার অভিজ্ঞ আজহার আলীকে মাঠ ছাড়া করেন তাইজুল। এই ডানহাতিকে শূন্য রানে এলবির ফাঁদে ফেলেন টাইগার স্পিনার।

এরপর ব্যাট করতে নামা বাবর আজমকে সরাসরি বোল্ড করে মাঠ ছাড়া করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। পাকিস্তান অধিনায়ক ৪৬ বলে ১০ রান করেন। তবে টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নেন আবিদ। বাবর ফেরার পর ব্যাট করতে নামা ফাওয়াদ আলমকে নিজের তৃতীয় শিকার বানান তাইজুল। প্রতিপক্ষের ১৮২ রানের মাথায় এই বাঁহাতিকে উইকেটরক্ষক লিটনের ক্যাচে পরিণত করেন এই স্পিনার। এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ানকে দারুণ এক ডেলিভারিতে ফেরান এবাদত হোসেন। ডানহাতি এই পেসারের ইনসুইং বুঝতে না পেরে এলবি হন পাকিস্তানের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার (৫)।

সেঞ্চুরি হাঁকানো আবিদকে ফিরিয়ে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন তাইজুল। পাকিস্তানি ওপেনার ২৮২ বলে ১২টি চার ও ২টি ছক্কায় ১৩৩ রান করে বিদায় নেন। এরপর হাসান আলীকে ১২ রানে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারে নবমবারের মতো পাঁচ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন তাইজুল। এরপর পাকিস্তানি ব্যাটার সাজিদ খানকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান এবাদত। নুমান আলীকে (৮) ফিরিয়ে ষষ্ঠ উইকেট তুলে নেন তাইজুল। এরপর ফাহিম আশরাফকে (৩৮) ফিরিয়ে নিজের সপ্তম উইকেট তুলে নেন বাঁহাতি স্পিনার। ফলে  সব উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান।  বল হাতে বাংলাদেশের সফল বোলার তাইজুল ইসলাম। তিনি একাই তুলে নেন ৭ উইকেট।

একুশে সংবাদ/এসএস/