দেশের সব সামাজিক নিরাপত্তা ও সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা একক পরিচয়ের আওতায় আনতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে বাজেট সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
দেশের সাধারণ মানুষ, প্রান্তিক কৃষক এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান সব সরকারি সুবিধা একটি একক কার্ডের মাধ্যমে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই কার্ডের নাম হবে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং প্রথম বাজেট সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দেওয়া সামাজিক সুরক্ষামূলক সুবিধা কোনো দয়া নয়, বরং নাগরিকের অধিকার। তাই ভবিষ্যতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন শ্রেণির জন্য চালু থাকা পৃথক কার্ডের পরিবর্তে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা একক পরিচয়ে সব সরকারি সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষকদের দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে। এতে প্রায় ১৩ লাখ প্রান্তিক কৃষক উপকৃত হয়েছেন।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে রাজনৈতিক বিভেদ নয়, জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। বিরোধীদলীয় সদস্যদেরও এসব কর্মসূচির প্রতি সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।
অর্থনীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের ব্যাপক অর্থপাচার ও দুর্নীতির কারণে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। দুর্নীতি দমনে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি, ইকোট্যুরিজমসহ বিভিন্ন খাতে পর্যায়ক্রমে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক ক্যারিয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরি এবং প্রায় আড়াই লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি বৈষম্যহীন, উগ্রবাদমুক্ত ও গণতান্ত্রিক কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তোলা। একই সঙ্গে জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও পেশাদার করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

