ভাঙ্গা উপজেলায় ৭৩টি প্রাইমারি স্কুলের দপ্তরির বেতন বোনাস আত্মসাৎ এর অভিযোগে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেনের অফিস ঘেরাও ও বিক্ষোভ করেছে ভুক্তভোগীরা। উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে বিক্ষোভকারীরা শান্ত হন।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার প্রাইমারি শিক্ষা অফিসের সামনে ৭৩ জন দপ্তরি ও ভুক্তভোগী শিক্ষকরা তাকে অবরুদ্ধ করে এ বিক্ষোভ করে।
জানা যায়, ভাঙ্গা উপজেলা প্রাইমারি শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে ১২ জনকে ভুয়া নিয়োগ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ বাণিজ্য ও পাহাড় পরিমান অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে ৭৩ স্কুলের দপ্তরী ও নৈশ প্রহরীরা তাদের তিন মাসের বেতন আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে, তখন তারা বুধবার অফিস ঘেরাও করে অবরুদ্ধ ও বিক্ষোভ করতে থাকে।
অবস্থা বেগতিক দেখে উপজেলা প্রশাসন তাদেরকে আশ্বস্ত করার পর তারা শান্ত হন।
এ ঘটনায় মহেশ্বরদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি ইব্রাহিম জানান, আমাদের ৭৩টি স্কুলের দপ্তরিদের তিন থেকে চার মাসের বেতন ও গত ঈদের বোনাসের টাকা, ১২ জন দপ্তরিকে ভুয়া নিয়োগ দিয়ে আমাদের বেতন তাদেরকে দিয়ে আত্মসাৎ করেছে জাহাঙ্গীর স্যার , একেক জনের নামে পিছনের তারিখ দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছে। অথচ আমাদেরকে ৩ মাস ধরে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে রেখেছে। আমরা খবর নিয়ে দেখেছি আমাদের বেতনের টাকা সে আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
আমাদের টাকা না দেওয়া পর্যন্ত আমরা অফিসের সামনে থেকে সরে যাব না। এদিকে ওই স্কুলের একজন সহকারী শিক্ষক সুমন মিয়া জানান, আমার মত অনেকের কাছ থেকে বদলির কথা বলে জাহাঙ্গীর স্যার ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নিয়েছে, আমরাও সেই টাকা ফেরত চাই।
অন্যদিকে, রায়পাড়া স্কুলের দপ্তরি জাহিদ মাতুব্বর জানান, এর আগেও জাহাঙ্গীর স্যার আমাদের বেতনের টাকা, অনেক টালবাহানা করে দিয়েছে, এবারও আমাদেরকে বাজেট আসে নাই বলে মিথ্যা বলে বলে এ পর্যন্ত এনেছে এখন সে পালিয়ে গেলে আমাদের কি উপায় হবে?
আমরা তার বিচার চাই।
এদিকে মাস্টার আলমগীর হোসেন বলেন, এই দুর্নীতিবাজ শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন অনেককে ভুয়া নিয়োগ দিয়েছে, আগে যারা প্রধান শিক্ষক অবসরে গিয়েছেন ওই শিক্ষকদের স্বাক্ষর নকল করে দপ্তরি নিয়োগ দিয়েছে, ২৫-২৬ অর্থবছরে দপ্তরিদের যে টাকা বরাদ্দ এসেছে জব্বার মাস্টার নামের এক প্রধান শিক্ষক আছে তার মাধ্যমে উনি টাকা গুলো উঠিয়ে নিয়ে গেছে, রানিং যে দপ্তরি রয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টি স্কুলের দপ্তরিদের তিন থেকে চার মাস যাবত বেতন বন্ধ রয়েছে, সেগুলো তিনি অগ্রিম সই করিয়ে নিয়ে গেছে, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত, ১৩ লাখ, ১৪ লাখ টাকার চেক তাদের কাছ থেকে এরিয়ার বিল হিসেবে নিয়ে গেছে।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেনের একটি বদলির আদেশ হয়েছে সেই প্রেক্ষিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ ও কর্মরত ৭৩ জন দপ্তরিরা এসেছিলেন, বিশৃঙ্খল অবস্থা দেখে উভয়কে নিয়ে বসে তাদের অভিযোগ শুনেছি এবং জেলা শিক্ষা অফিসারকে অবগত করিয়েছি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জানিয়েছি, তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে ডিপার্টমেন্টাল ম্যাটারগুলো তাদের সহযোগিতা নিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি।
তিনি আরো জানান, এই মুহূর্তে যে সব বিষয় সমাধানযোগ্য সেগুলো শিক্ষা অফিসার এখনই সমাধান করবেন বলে আমাদেরকে অবহিত করেছে, বাকি যদি উশৃঙ্খলা পরিপন্থী কোন কর্মকাণ্ড পরিলক্ষিত হয়ে থাকে তাহলে ডিপার্টমেন্টাল বিভাগীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করব।
অন্যদিকে এ বিষয়ে প্রাইমারি শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

