উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, বাসযোগ্য ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৮ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে জাতীয় ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনকে ধারণ করে বর্তমান সরকার একটি সবুজ, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি জানান, এ বছরের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’, যা পরিবেশ রক্ষায় সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাছ বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন শোষণ করে, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখে।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, এটি শুধু সরকারি কর্মসূচি নয়, বরং একটি জাতীয় আন্দোলন।
তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও রেলপথের দুই পাশ, বাঁধ, সরকারি বনভূমি, উপকূলীয় চরাঞ্চল, নগর এলাকা এবং বসতবাড়িসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি নগর বনায়নে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং বিনামূল্যে চারা বিতরণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এসব উদ্যোগ দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।
তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাড়ির আঙিনা, পতিত জমি, নদী-খালের পাড়, সড়কের পাশ, ছাদসহ উপযুক্ত প্রতিটি স্থানে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণে সবাইকে অংশ নিতে হবে।
এছাড়া জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বৃক্ষমেলার আয়োজন এবং তিন মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বার্তার শেষে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানো এবং তার যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৫’, ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৬’ এবং সামাজিক বনায়নের লভ্যাংশপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে জাতীয় ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

