সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার দক্ষিণ বংশিকুন্ডা বাজারে জমে উঠেছে গরুর হাট। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশুর হাটে এখন চলছে আমদানি রফতানির প্রস্তুতি। আর এরিমধ্যেই এই নতুন হাটে জমে উঠেছে কোরবানির পশু কেনাবেচা।
২০২৬ সালের বছরের শুরুতেই বংশিকুন্ডা বাজারে এলাকার কাঙ্ক্ষিত পশুর হাটটি শুভ উদ্বোধন করা হয়। সপ্তাহে প্রতি শনিবারে গরু বা পশুর হাট হিসেবে সূচনা করা হয়েছে।
তবে ঈদের মৌসুমে কোরবানির গরু বেচা কেনার জন্য, শনিবার ছাড়াও হাট বসবে। এ-ই হাটে পছন্দসই চাহিদা পূর্ণের লক্ষ্যে, মধ্যনগর উপজেলা,তাহিরপুর উপজেলা সহ নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা এবং দূর দূরান্ত থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতারা আসেন বংশিকুন্ডা গরুর হাটে। এ-ই হাটে কৃষকের গৃহ পালিত পছন্দ মতো দেশিয় গরু পাওয়া যায়। সাড়গরু সহ গাভী, বাছুর,মহিষ,ছাগল,খাশি,ভেড়া সহ বেচাকেনা হয়।
এছাড়াও ক্রেতা বিক্রেতার জন্য রয়েছে অনেক ছাড়, খাজনা নেওয়া হয় প্রতি গরু ৩০০ টাকা। বাজার কতৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি গরু বেচাকেনায় গ্রহীতার নিকট হইতে ৩০০ টাকা খাজনা আদায় করার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তাছাড়া বাজার কমিটি এবং ইজারাদারের পক্ষ থেকে থাকছে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। এবং ক্রেতা বিক্রেতার জন্য রয়েছে পরিবহন সহ সকল ধরনের সুবিধার সহায়তা।
এরিমাঝে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, এ বছর কোরবানির জন্য দেশে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখেরও বেশি পশুর সরবরাহ থাকবে, যেখানে চাহিদা রয়েছে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ পশু।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত এক দশকে দেশে কোরবানির পশুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। ২০১৫ সালে যেখানে পশুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮৫ থেকে ৮৮ লাখ, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৪ লাখে। তবে ২০২০ সালের করোনা মহামারি এবং ২০২৫ সালে মূল্যস্ফীতির কারণে কিছুটা ওঠানামা দেখা গেছে কোরবানির বাজারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে দেশীয় খামারভিত্তিক উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে এখন আর আমদানি নির্ভরতা নেই, বরং অভ্যন্তরীণ উৎপাদনই বাজারের প্রধান জোগান দিচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, কোরবানির পশুর বাজার এখন শুধু ধর্মীয় আয়োজন নয়, এটি দেশের একটি বড় মৌসুমি অর্থনৈতিক খাত, যা পশুখাদ্য, পরিবহন, হাট ইজারা, শ্রমবাজার ও চামড়া শিল্প সহ বহু খাতে প্রভাব ফেলছে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

