AB Bank
  • ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

ভোগান্তি থেকে মুক্তি চান পাবিপ্রবি গণতন্ত্র হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা


Ekushey Sangbad
পাবিপ্রবি প্রতিনিধি
০৩:০১ পিএম, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

ভোগান্তি থেকে মুক্তি চান পাবিপ্রবি গণতন্ত্র হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) গণতন্ত্র হলে নানাবিধ সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন আবাসিক হলের নারী শিক্ষার্থীরা। প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর আবাসস্থল এই হলে শুরু থেকেই বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা ও সংকট বিরাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হল চালুর পর থেকেই শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য তারা নিয়মিত হল প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়ে আসছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপেও বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। তবে এতকিছুর পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, হল ডাইনিংয়ের খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের, প্রতিবেলায় মাত্র এক পদের খাবার,হল ক্যান্টিন না থাকাসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা । অনেক শিক্ষার্থী খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও দাবি করেছেন। হলে রান্নাঘর থাকলেও  ১ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট না। সর্বদাই  লম্বা লাইন  লেগে থাকে ফলে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় নষ্ট হয়।

রান্নাঘরসহ হলের ওয়াশরুম ও ফ্লোর নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ অনেকের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

প্রতিটি ফ্লোরে নামাজের কক্ষ থাকলেও সেগুলো তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও এখনো তা খুলে দেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এছাড়া হলের বেশিরভাগ পানি পরিশোধন (ফিল্টার) যন্ত্র অকেজো হয়ে রয়েছে, ফলে বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। শুরু থেকেই লিফটের সমস্যা থাকায় উচ্চতলার শিক্ষার্থীদের চলাচলেও ভোগান্তি বাড়ছে।

অন্যদিকে, হলের বিভিন্ন ফ্লোরে স্থাপিত সিসি ক্যামেরা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবাসিকরা। তাদের দাবি, কিছু স্থানে ক্যামেরা স্থাপনের কারণে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বিঘ্নিত হচ্ছে, যা নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্বেগজনক। এসব সমস্যার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেক শিক্ষার্থী গণতন্ত্র হলকে “জেলখানার মতো” বলে অভিহিত করেছেন।

২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক আবাসিক শিক্ষার্থী জানান, হলে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক সমস্যায় তারা ভোগান্তিতে রয়েছেন। বিশুদ্ধ পানির জন্য ফিল্টারগুলো বেশিরভাগই অকেজো। আবার এত শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও সচল লিফটের সংখ্যা খুবই কম হওয়ায় প্রতিনিয়ত ভিড় ও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ওয়াশরুমগুলোও নিয়মিত ও মানসম্মতভাবে পরিষ্কার করা হয় না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ডাইনিং ব্যবস্থাপনা খাবারের মান ও বৈচিত্র্য অত্যন্ত নিম্নমানের, অতিরিক্ত ঝাল ও অরুচিকর হওয়ায় অনেকেই বাইরে খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছেন। পাশাপাশি ডাইনিং কর্মীদের আচরণ নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানে হল প্রশাসনের কার্যকর ও জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

হলের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানান, অন্য হলে রান্নার ব্যবস্থা থাকলেও এখানে চা-কফি তৈরি করাও যেন বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে; কারণ অযৌক্তিকভাবে রান্নাঘর প্রায়ই বন্ধ রাখা হয়। ডাইনিংয়ের খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং প্রতিদিন একই ধরনের খাবার পরিবেশন করা হয়, যা খেয়ে সুস্থ থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। হলের চারটি লিফটের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তিনটিই নষ্ট থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে ক্লাসের সময় একটি লিফটের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেকেরই ক্লাস মিস হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি ফ্লোরে নামাজের কক্ষ থাকলেও সেগুলো তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে, একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও এখনো তা খুলে দেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, হলের বিভিন্ন জায়গা বিশেষ করে করিডোর ও ওয়াশরুমের সামনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করার কারণে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বিঘ্নিত হচ্ছে তাদের। এছাড়াও হলের মধ্যে হটাৎ করেই কাজের লোক চলে আসে কোনো ধরনের সতর্কতা  ছাড়াই। কখনো ইন্টারনেটের কাজে অথবা  কখনো ইলেকট্রিক সহ অন্য কাজে। প্রশাসনের উচিত এসব বিষয় নিয়ে কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করা।

এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট লায়লা আনজমান বানু জানান, ‍‍` নতুন হল হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কয়েকদিন একজন ক্লিনার অসুস্থ থাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় কিছুটা দেরি হয়েছে, তবে আমরা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করেছি। হলের অনেক শিক্ষার্থী আগে মেসে থাকায় ডাইনিংয়ের খাবার তাদের কাছে ভিন্ন লাগতে পারে, তবে শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী খাবারের মান উন্নয়নের চেষ্টা চলবে।

নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যাতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। পানির ফিল্টারের কিট পরিবর্তনের বিষয়েও ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরের সাথে আবার যোগাযোগ করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে। শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে প্রতি রান্নাঘরে সাবমারসিবল এর ব্যাবস্থা করা হয়েছে।‍‍`

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!