মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ। এ প্রেক্ষাপটে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ৭ হাজার টন ডিজেল আমদানি শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। পুরো চালান পৌঁছাতে আরও এক থেকে দুই দিন সময় লাগতে পারে।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থাগুলো সচল থাকায় আপাতত জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের কৃষি, সড়ক পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ফলে সরবরাহে সামান্য বিঘ্নও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। চলতি মাসে ১৭টি জাহাজে ডিজেল আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত এসেছে ৯টি, একটি পথে রয়েছে এবং বাকি কয়েকটির সময়সূচি অনিশ্চিত।
এই পরিস্থিতিতে পাইপলাইন সরবরাহের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। এরই মধ্যে ভারত থেকে প্রায় ১৫ হাজার টন ডিজেল এসেছে। এর আগে ২৫ মার্চ আরও ৫ হাজার টন সরবরাহ শুরু হয়েছিল।
কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে জ্বালানি পরিবহন ব্যয় বেড়েছে এবং জাহাজ সংকট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় পাইপলাইনকে তুলনামূলক স্থিতিশীল ও কম খরচের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন প্রকল্পের আওতায় ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরাসরি দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছায়। চুক্তি অনুযায়ী বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের কথা রয়েছে, অতিরিক্ত সরবরাহের সুযোগও রাখা হয়েছে।
তবে সীমিত সংরক্ষণ সুবিধার কারণে একবারে বড় পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি না করলে এর পূর্ণ সুফল পাওয়া কঠিন হবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

